জামিন জালিয়াতি, জেল সুপারের ক্ষমা প্রার্থনা

Law 320170925162527 জামিন জালিয়াতি, জেল সুপারের ক্ষমা প্রার্থনাজাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া জামিননামায় অপহরণ মামলার এক আসামির কারামুক্তির ঘটনায় ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. জাহাঙ্গীর কবির নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

সোমবার ঢাকার চার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দারের আদালতে নিজে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এদিকে এদিন ওই মামলায় পালিয়ে যাওয়া আসামি মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর মামলার অপর ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছিল আদালত। আসামিরা হলেন-রেজাউল করিম, নজরুল ইসলাম, মশিউর রহমান মন্টু, আলীম হোসেন চন্দন, সজীব আহমেদ ওরফে কামাল উদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ইকবাল হোসেন শুভ, জাহির উদ্দিন মোহাম্মাদ বসার, শেখ মো. অলিউল্লাহ, রেজা মৃধা ও কাওছার মৃধা।

উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল। কারাগারে আটক আট আসামির সাতজনকে ওইদিন কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে হাজির করেন। কিন্তু মামলার প্রধান আসামি মিজান মাতুব্বরকে আদালতে হাজির না করলে ঢাকা কেদ্রীয় কারাগারের জেলারকে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলেন ট্রাইব্যুনাল।

জেল সুপার তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ৩০ আগস্ট ঢাকার চার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ৪৩০ নম্বর স্মারকমূলে আদালতের পত্রবাহক তৈয়বের মাধ্যমে আসামি মিজানের জামিনামা ও রিলিজ আদেশ পায় জেল কর্তৃপক্ষ। ওইদিনই তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কিন্তু গত ১০ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট আদালত হতে ফোন দিয়ে মিজানকে আদালতে হাজির না করার বিষয়টি জানতে চাইলে তারা ওইদিন জানতে পারেন যে আদালত থেকে মিজানের জামিন হয়নি।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে স্পেশাল পিপি ফোরকান মিয়া বলেন, তাদের ট্রাইব্যুনাল থেকে কোনো ছাড়পত্র কারাগারে যায়নি। কারা কর্তৃপক্ষ কোনো জামিনের ছাড়পত্র পেলে তাদের যাচাই করা উচিত ছিল যা তারা করেননি। তাই এখন আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২মে মাসে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন স্টাফ রোড এলাকায় ফ্লাইওভারের নিচ হতে শিশু আবীরকে (৮) তাদের প্রাইভেটকার থেকে অপহরণকারীরা ছিনিয়ে নিয়ে মাইক্রোবাসে অপহরণ করে। এরপর অপহরণকারী ১০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে একাধিক ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং নগদ ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপন দিলে অপহরণকারীরা শিশু আবীরকে ছেড়ে দেয়। পরে ওই ঘটনায় আবীরের মামা এনায়েত উল্লাহ বাদি হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করলে র‌্যাব ৫ আসামিকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আসামি মিজান, রেজাউল ও নজরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের পরিদর্শক কবির হোসেন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

Facebook Comments
Shares 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *