রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বিপদজনক এনজিও

NGO in Rohinga 300x169 রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বিপদজনক এনজিওআকাশ২৪ রিপোর্টঃ কোনো প্রকার বাছবিচার ছাড়াই দেশি-বিদেশি এনজিওদের রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রে মানবিক কাজ করার অনুমতি দিচ্ছে সরকার। এনজিওবিষয়ক ব্যুরো অতি উৎসাহী হয়ে এসব করছে। এতে দেশের নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে গণনিষ্ঠুরতার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গার মানবিক সেবায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দেশ-বিদেশের ৪০টি এনজিও কাজ করছে। কোনো নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়াই এনজিও বিষয়ক বু্যুরো কাজ করার অনুমতি দিয়েছে। এ জন্য দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ছে।
সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র ছাড়াই রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ৪০টি এনজিওকে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে এনজিওবিষয়ক ব্যুরো। এর মধ্যে কয়েকটি বিতর্কিত বিদেশি এনজিও রয়েছে। ইতোপূর্বে একটি এনজিও দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়ে এমন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে। সেই এনজিওটিও রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রে কাজ করার অনুমতি পেয়েছে। এই এনজিওটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সহায়তাপুষ্ট এবং এটি নানাভাবে বিতর্কিত। স্পর্শকাতর রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রে কাজের অনুমতি প্রদানের জন্য এনজিওবিষয়ক ব্যুরো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিরাপত্তাজনিত কোনো ছাড়পত্র নেয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঘোরতর আপত্তি তোলা হয়েছে।
সোমবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচির দফতরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ের বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রোহিঙ্গা বিষয়ক টাস্কফোর্সের সভায় বাছবিচার ছাড়া ব্যুরোর অনুমোদন দেয়ার বিষয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে ব্যুরোর কাছে ব্যাখা চাওয়া হয়েছে। এটিকে বড় ধরনের দায়িত্বহীন কাজ বলে দেখা হয়েছে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর অতি উৎসাহ নিয়ে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিনিধি জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। অত্যন্ত স্পর্শকাতর রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে কোন কোন এনজিওকে কাজের অনুমতি দেয়া হবে, সেটি নিরাপত্তার দিক থেকে ঠিক করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানবিক কাজ করতে এনজিওবিষয়ক ব্যুর‌্যে ৪০টি এনজিওকে কাজ করার অনুমতি প্রদান করেছে। এর মধ্যে একটি বিপদজনক এনজিও রয়েছে। ওই এনজিওটির কাজের অনুমতি বাতিলে জরুরি পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়। মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিয়ে এনজিওটির কর্মকাণ্ড বাতিল করা হয়েছে।
এর জবাবে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর প্রতিনিধি বলেন, আমাদেরকে সব সময় এনজিওদের নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। সে কারণেই ওই এনজিওটিকে কাজের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন কোনো এনজিওকে সেখানে কাজের অনুমতি দেয়া যাবে না।
সভায় কর্মকর্তারা বলেন, অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, তাদেরকে অবশ্যই নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
কিন্তু এরই মধ্যে কিছু কিছু এনজিও ও সংস্থা রোহিঙ্গাদের এখানে স্থায়ীভাবে বসত গড়ার শেল্টার নির্মাণসহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। এটা চলতে থাকলে তাদের মিয়ানমারে পাঠানো যাবে না। এ সমস্যাটি আমাদের ঘাড়ে স্থায়ীভাবে চেপে যাবে। যা আগামী দিনে আমাদের জাতির জন্য সংকট হিসেবে দেখা দেবে।

Facebook Comments
Shares 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *