শান্তিতে নোবেল পেল আইক্যান

Noble Prize 2017 300x166 শান্তিতে নোবেল পেল আইক্যানআকাশ২৪ ডেস্কঃ বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে নিরন্তর প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছে পরমাণু অস্ত্রমুক্তির আন্তর্জাতিক প্রচারণা জোট ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইক্যান)। নোবেল কমিটির শান্তি পুরস্কার ঘোষনায় সব ধারণা-জল্পনার অবসান ঘটলো। নোবেল শান্তি পুরস্কার কে পাচ্ছে এই নিয়ে সোস্যাল মিডিয়াসহ নানানভাবে আলোচনা ছিল তুঙ্গে ।

নরওয়ের রাজধানী অসলোতে আজ শুক্রবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় বিজয়ী হিসেবে সংস্থাটির নাম ঘোষণা করে নোবেল কমিটি ।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির প্রেসিডেন্ট বেরিট রেইস-অ্যান্ডারসন বলেন, যেকোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার মানবিক যে বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনে তার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণে সংস্থাটির কাজের জন্য এবং এ ধরনের অস্ত্রের বিরুদ্ধে একটি চুক্তি-ভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে উদ্ভাবনীমূলক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে সংস্থাটি এই পুরস্কার পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা এমন একটি বিশ্বে বাস করছি, যেখানে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বিগত বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের হুমকির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বিশ্বের পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোকে এই অস্ত্র ক্রমেই বিলুপ্ত করতে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

পুরস্কার বাবদ একটি সোনার পদক ও ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (১১ লাখ ডলার) পাবে ইকান। আগামী ১০ ডিসেম্বর অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

১০ বছর আগে ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে গঠিত এই জোটের বর্তমান নির্বাহী পরিচালক বিয়াট্রিস ফিন, আর সমন্বয়ক ডানিয়েল হোগস্টা। ১০১টি দেশে ৪৬৮ অংশীদার সংগঠনকে নিয়ে কাজ করা ইকানের বর্তমান সদরদফতর জেনেভায়।

চলতি বছরের জুলাইয়ে পরমাণু যুদ্ধাস্ত্র মুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধের আইনগত বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন (নিরস্ত্রীকরণ) জাতিসংঘের যে চুক্তিটি ১২২ দেশের সম্মতিতে পাস হয়েছে, তা প্রস্তুত করতে এবং বাস্তবায়নে ইকানের ভূমিকা যুগান্তকারী। অবশ্য চুক্তিটি কার্যকরে ৫০ দেশের অনসুমর্থন প্রয়োজন হলেও পাওয়া গেছে মাত্র ৩ দেশের। ৫৩টি দেশ চুক্তিতে সই করলেও তা পর্যন্ত করেনি পরমাণু শক্তিধর ৯ দেশের কেউই।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ৩১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে খুব বেশি আলোচনায় ছিল না ইকান। 

জল্পনা ছিল ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস ও জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেলের মতো ব্যক্তিত্বদের ঘিরে। আলোচনায় ছিল জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর), আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন, গাম্বিয়ায় শান্তি স্থাপনে ভূমিকা পালনকারী আঞ্চলিক জোট ইকোনমিক কমিউনিটি অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস (ইকোওয়াস), যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় হতাহতদের উদ্ধারে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হোয়াইট হেলমেটস, আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাবের মতো সংগঠনগুলোও। শেষ পর্যন্ত সবাইকে ছাপিয়ে ইকান পেয়ে গেলো তাদের পরমাণু অস্ত্রমুক্তির আন্দোলনের স্বীকৃতি।

গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট  হুয়ান মানুয়েল সান্তোস। স্বদেশে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা ও ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য তাকে সেই পুরস্কার দেওয়া হয়।

Facebook Comments
Shares 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *