সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন এরশাদ

1450814778 300x200 সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন এরশাদআকাশ২৪ রিপোর্টঃ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে মতবিনিময়কালে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসি’র সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় ৮টি প্রস্তাবের মধ্যে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার প্রস্তাবটি রয়েছে।
সোমবার সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সভাপতিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ২৫ জন উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান লিখিতভাবে ৮টি প্রস্তাব দেন। সেগুলো হলো- নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ওপর অন্তবর্তী সরকারের হস্তক্ষেপ করা চলবে না। নির্বাচনের সময় সারা দেশে স্বশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর নির্দিষ্ট সময়ে সংসদ ভেঙে দিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলের আনুপাতিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অন্তবর্তী সরকার গঠন করতে হবে। দলীয় প্রধানের সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তবর্তী মন্ত্রিসভার সদস্য নিয়োগ করতে হবে। নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন কোনো বিতর্কিত কর্মকর্তাকে দায়িত্বে রাখা যাবে না। নির্বাচনী ব্যয় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে সব খরচ তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করতে হবে। প্রচার কাজের গাড়িবহর সীমিত রাখার বিধান রাখতে হবে। সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ প্রসঙ্গে বারবার সীমানা নির্ধারণ না করে ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রয়োজনে সংবিধানের ধারা, উপধারা সংশোধন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিয়ে আসতে হবে এবং নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে বিবেচনা করতে হবে।
এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির একটি সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। নির্বাচন শুধু দলের ভিত্তিতে হতে পারে। অর্থাৎ, ভোটাররা দলকে ভোট দেবেন। সরাসরি প্রার্থীকে নয়। প্রত্যেক দল প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে সংসদীয় আসনের সদস্য পাবে। বর্তমান বিশ্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত যেসব দেশে এই পদ্ধতির প্রচলন রয়েছে সেসব দেশকে অনুসরণ করা যেতে পারে।
ইসি ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ৩১ জুলাই নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এর পর ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে কমিশন।

Facebook Comments
Shares 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *