মেডিকেল ভর্তি। কোটার ম্যারপ্যাঁচে মেধাবীরা বঞ্চিত

student20170503190733 300x156 মেডিকেল ভর্তি। কোটার ম্যারপ্যাঁচে মেধাবীরা বঞ্চিতআকাশ২৪ রিপোর্টঃ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭০-৮০ নম্বর পেয়েও সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন হাজারো ছাত্রছাত্রী। অপর দিকে ভর্তি পরীক্ষায় মাত্র ৬৫ দশমিক ৫ নম্বর থেকে ৫৭ দশমিক ৫ নম্বর পেয়েও অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। বিভিন্ন সংরক্ষিত কোটার ম্যারপ্যাঁচে অনেক বেশি নম্বর পেয়েও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর মেডিকেল কলেজে পড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের ৩১টি সরকারি মেডিকেল কলেজে মোট ৩ হাজার ৩১৮টি আসনের মধ্যে ৩ হাজার ২৩১টি সাধারণ আসন, মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যা ও নাতি-নাতনিদের জন্য ৬৭টি এবং পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জন্য ২০টি আসন সংরক্ষিত। সাধারণ আসনের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক কোটা সংরক্ষিত রয়েছে। চলতি বছরের মেডিকেল ভর্তির প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ১০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দশমিক ৫ পেয়েছেন দু’জন ছাত্র । ৮০ থেকে ৯০ প্রাপ্তের সংখ্যা ৬৪৩ জন (৩২১ জন ছাত্রছাত্রী)।

৭০ থেকে ৮০ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৩ হাজার ৭৬৮ (ছাত্র ১ হাজার ৬৯৭ ও ছাত্রী ২০৭১ জন)। সাধারণ কোটায় ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্রের ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত সর্বোচ্চ নম্বর ৯০ দশমিক ৫ ও সর্বনিম্ন ৭০ দশমিক ৫ পেয়ে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, সাধারণ আসনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন বিভাগের জন্য কোটা সংরক্ষিত রযেছে। সে কোটায় সর্বনিম্ন ৬৫ দশমিক ৫ নম্বর পেয়েও ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন অনেকে।

পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর উপজাতী ছাত্রছাত্রীরা সর্বনিম্ন ৫৭ দশমিক ৫ পেয়েও সরকারি মেডিকেলে ভর্তির জন্য নির্বাাচিত হন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কোটা পদ্ধতির কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়েও ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রসঙ্গত, চলতি বছর ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনকারী ৮২ হাজার ৮৫৬ জনের মধ্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার ৮১৮ জন। ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্রে নেয়া পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০। ৪০ নম্বর পেয়ে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ৪১ হাজার ১৩২ জন। তাদের মধ্যে ১৯ হাজার ৯১২ জন ছাত্র ও ২১ হাজার ২১০ জন ছাত্রী।

Facebook Comments
Shares 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *