তামিম যেন আহত মুক্তিযোদ্ধা

তামিম যেন আহত মুক্তিযোদ্ধাআকাশ২৪ ডেস্কঃ নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা দেখেনি আমাদের স্বাধীনতার সেই মহান মুক্তিযুদ্ধ। রক্তাত্ব, গুলিবিদ্ধ আহত যোদ্ধারা কিভাবে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল রনাঙ্গনে। কি অদম্য সাহস আর দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকলে এমনটি করা সম্ভব।

গতকাল বাংলাদেশ-শ্রীলংকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠেছে এশিয়া কাপের ১৪তম আসরের। শনিবার দুবাইয়ে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরুতেই হোঁচট খায় টাইগাররা। ২ রানেই লিটন-সাকিবকে হারায় তারা। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই লাকমলের শর্ট পিচ বলে কব্জিতে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে গেছেন তামিম; ততক্ষণে এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে এও জানা যে, তার এশিয়া কাপে আর খেলা হচ্ছে না। অন্তত ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে।

দলের ২২৯ রানের মাথায় ৪৭তম ওভারের পঞ্চম বলটিতে নবম উইকেট মুস্তাফিজ যখন রানআউট হলেন, তখন বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। স্কোরবোর্ডে নয় উইকেট হলেও কার্যত সেটি দশম উইকেটের মতো। ক্রিকইনফোর লাইভ কাভারেজে বলা হচ্ছিল- ৩ ওভার বাকি থাকতেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ। কিন্তু সবাইকে বিস্ময়ে হতবাক করে অবিশ্বাস্য এক সাহসী কাজ করে ফেললেন তামিম। যার বলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল, সেই সুরাঙ্গা লাকমালই তখন আক্রমণে। স্ট্রাইক এন্ডে দাঁড়িয়ে একটি বলই খেললেন তামিম। স্টাম্প সোজা আসা লাফিয়ে ওঠা বলটি ব্যাকওয়ার্ড লেগে খেললেন স্রেফ ডান হাত বাড়িয়ে। বাঁ হাত যে ধরারই উপায় নেই! ক্যামেরায় ধরা পড়ল, কেবল বুড়ো আঙুলটাকেই গ্লাভসের আঙুলে ঢুকিয়েছেন, বাকি চারটি বাইরে। কব্জির চিড় তার বাঁ হাতে ব্যাট ধরার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার পরও ‘দলের উপকার হলেও হতে পারে’ ভাবনায় এই যে নেমে পড়েন- এ দেখে বিস্মিত ক্রিকেট বিশ্ব।

মাঠে নেমে এক হাতে সুরঙ্গা লাকমলের মারাত্মক ডেলিভেরি মোকাবেলা করেন তামিম। তার এমন মানসিকতা দেখে যেন আরও তেতে যান গোটা ইনিংসে আলো ছড়ানো মুশফিকুর রহিম। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত চোটগ্রস্ত তামিমকে নিয়ে ৩২ রান যোগ করেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। সবকটিই তার রান। মাঝে মাত্র একটি বল খেলেছেন তামিম।

দুজনের দৃঢ়চেতায় ২৬১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় বাংলাদেশ। ১৫০ বলে ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ১৪৪ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে থিসারা পেরেরার শিকার হয়ে ফেরেন মুশফিক। ২ রানে অপরাজিত থাকেন তামিম।

স্কোরকার্ডে লেখা থাকবে এ ম্যাচে মাত্র চারটি বল খেলেছিলেন তামিম ইকবাল। লেখা থাকবে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার আগে ৩ বল আর শেষের দিকে ফিরে এসে ১ বল খেলেছেন। কিন্তু লেখা থাকবে না শেষের এই একটি বল তামিমের এক যুগের ক্যারিয়ারে খেলা হাজারো বলের চেয়ে কয়েক হাজারগুণ দামি; লেখা থাকবে না এই একটি বলে কী অবিশ্বাস্য দেশাত্মবোধ, দলীয় চেতনা আর আত্মোৎসর্গ মিশে ছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − 4 =