আচরনগত অর্থনীতির তাত্ত্বিকের হাতে অর্থনীতির নোবেল

richardthaler

richardthalerআকাশ২৪ ডেস্কঃ বিশ্বব্যপী আচরনগত অর্থনীতির তাত্ত্বিক শিকাগো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রিচার্ড এইচ থেলার এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন। । অর্থনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য সোমবার সুইডেনের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
সুইডিশ একাডেমির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিহ্যাভিয়রাল ইকোনমিকস বা আচরণগত অর্থনীতিতে অনন্য অবদানের জন্য থ্যালারকে এবার অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে।
৭২ বছর বয়সী থ্যালার বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো ও বুথ স্কুল অব বিজনেসের আচরণগত বিজ্ঞান ও অর্থনীতির অধ্যাপক। ২০০৮ সালের এপ্রিলে হার্ভার্ড ল স্কুলের অধ্যাপক কাস আর সানস্টেইনের সঙ্গে ‘নাজ’ নামে যৌথভাবে একটি বই লিখে জনপ্রিয়তা লাভ করেন থ্যালার। এই বইয়ের মাধ্যমেই পরিচিতি পায় তার ‘আচরণগত অর্থনীতি’ তত্ত্ব।
দ্য গার্ডিয়ান জানায়, এবার অর্থনীতিতে সম্ভাব্য নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে ছিলেন ভারতের সাবেক গভর্নর রঘুরাম রাজন ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন অর্থনীতিবিদ।
১৯৬৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। এক বছর পর ১৯৬৯ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৭৯ জন অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন।
গতবছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ অলিভার হার্ট এবং এমআইটি’র অর্থনীতিবিদ বেঙ্গিত হমস্ট্রম। চুক্তি তত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে ভারত

৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে ভারত

৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে ভারতআকাশ২৪ রিপোর্টঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা) ঋণ দেবে ভারত। এটি ভারতের লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) নামে পরিচিত। এর আগেও এলওসির আওতায় দুইবার ঋণ দিয়েছে ভারত। এটি হবে তৃতীয় ঋণ।
বুধবার সকাল ১০ টায় সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডির সচিব কাজী শফিকুল আযম ও ভারতের পক্ষে এক্সিম ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার এমডি নিজ নিজ পক্ষে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এরআগে, তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গতকালই ঢাকায় আসেন ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।
১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তৃতীয় এলওসি (লোন অব ক্রেডিড) আওতায় এ ঋণ পাওয়া যাবে। যা বিদ্যুৎ, নৌপরিবহন, রেলপথ, সড়কের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। ঋণের চুক্তি অনুযায়ী ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশ পণ্য সামগ্রী ভারত থেকেই কিনতে হবে।
সূত্র জানায়, গত এপ্রিলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নে একটি এমওইউ সই হয় ভারতের সঙ্গে। তারই বহিঃপ্রকাশ হতে যাচ্ছে আজ এ ঋণচুক্তির মাধ্যমে। এ ঋণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবকাঠামোর উন্নয়ন যুক্ত করা হয়েছে। থাকছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পায়রা বন্দরের বহুমুখি টার্মিনাল, বুড়িগঙ্গা নদী রি-স্টোরেশন (নিউ ধলেশ্বরী, পুংলী, বংশী, টঙ্গী, বুড়িগঙ্গা) নদী সিস্টেম। এ ছাড়া অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রামের বে-কন্টেইনার টার্মিনাল ও চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড প্রকল্প। রেল মন্ত্রণালয়ের রয়েছে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন নির্মাণ। এ ছাড়া থাকছে ইশ্বরদীতে রেল ও সড়কভিত্তিক আইসিডির উন্নয়ন প্রকল্প।
বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের রয়েছে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন। সড়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে রয়েছে ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বেনাপোল, যশোর, নড়াইল ও ভাঙ্গা ফোর লেন সড়ক, ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফোর লেনের রামগড় ও বড়–য়ারহাট সড়ক এবং কুমিল্লা বি.বাড়িয়া ফোরলেন সড়কও রয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় (বাস্তবায়নকারি বিডা) মিরসরাইয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতেও এ অর্থ ব্যয় করার জন্য প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীকে ঝকঝকে করতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকছে এক লাখ এলইডি স্ট্রিটলাইট ইনস্ট্রলেশন, মোল্লারহাট ১০০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ এবং এনই-বাংলাদেশ-এনইআর (কাটিহার, পার্বতীপুর ও বড়নগর) নেটওয়ার্ক সঞ্চালন উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রকল্পটি দেশের উন্নয়নে ভালোই ভূমিকা পালন করবে। তবে ঋণের শর্তটা বেশ কঠিন। কারণ ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে হবে ওই দেশের পণ্য সেবা কেনার জন্য। এর আগেও ২০১৫ সালের জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে এসে ২ বিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তি করেন। যা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো খাতে বিশেষ করে রেল, বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি, সড়ক পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নৌপরিবহন, অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ ১৪টি প্রকল্পে ব্যয় করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রেলপথসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৭টি প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে। বাকি ৭টি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ২০ বছরের মধ্যে ভারতকে এ ঋণ শোধ করতে হবে। এতে ১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে প্রথম পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কোনো কিস্তি পরিশোধ করা লাগবে না।
তার আগেও আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পরে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় ভারত ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছিল। এর মধ্যে অনুদান ছিল ২০ কোটি ডলার। প্রথমে ২০ থেকে ২৫টি প্রকল্প ধরা হলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরে প্রথম এলওসির মাধ্যমে ১২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প।

উল্লেখ্য, প্রথম এলওসিতে ৫ ভাগের এক অনুদান ঘোষণা করা হলেও দ্বিতীয় এলওসিতে কোনো অনুদান এখনো ঘোষণা করেনি ভারত সরকার। তবে প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন শুরু হলে তা হতে পারে। এটা হলে অনেক ঋণের বোঝা কমবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান।

ইউএস-বাংলা বিমানবহরে যুক্ত হলো ৪র্থ বোয়িং

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানবহরে ৪র্থ বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট যুক্ত হয়েছে।

শনিবার দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে উড়োজাহাজটি।

আনুষ্ঠানিকভাবে উড়োজাহাজটি গ্রহণ করেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ। এয়ারক্রাফট রিসিভিং অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পরিচালক ফ্লাইট অপারেশন মসিউল আজম, পরিচালক প্রকৌশল ইমামুল মজিদ, জেনারেল ম্যানেজার কাস্টমার সার্ভিস ইমরান আহমেদ, জেনারেল ম্যানেজার অপারেশন জুলফিকার আলীসহ এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

চীনের জিনান শহর থেকে ইউএস-বাংলার ক্যাপ্টেন ইলিয়াস মালিক ও ক্যাপ্টেন রুহুল কাদির নতুন সংযোজিত ফ্লাইটটি পরিচালনা করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করান। অবতরণের পর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সিইও ইমরান আসিফ ক্যাপ্টেনদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর এয়ারলাইন্সের সার্বিক উন্নতির জন্য দোয়া পরিচালনা করা হয়।

নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফটটিতে আটটি বিজনেস ক্লাস ও ১৫৬টি ইকোনমি ক্লাসের আসনসহ মোট ১৬৪টি আসন ব্যবস্থা রয়েছে।

২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ইউএস-বাংলা ঢাকা থেকে যশোরে উদ্বোধনী ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। নতুন যুক্ত হওয়া বোয়িং ৭৩৭-৮০০সহ বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানবহরে মোট সাতটি এয়ারক্রাফট রয়েছে যার মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও তিনটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০০টির অধিক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। যাত্রা শুরু করার পর তিন বছরে প্রায় ৩০ হাজারের অধিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছে, যা বাংলাদেশে বিমান চলাচলের ইতিহাসে একটি রেকর্ড। বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, মাস্কাট, কলকাতা ও কাঠমান্ডুসহ অভ্যন্তরীণ রুট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও বরিশাল রুটে নিয়মিতভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা।

আগামী ১ অক্টোবর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে দোহা রুটে ফ্লাইট শুরু করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। খুব শিগগির জেদ্দা, দাম্মাম, রিয়াদ, হংকং, দিল্লি, চেন্নাই, গুয়াংজুসহ বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।