স্পেন থেকে স্বাধীন হওয়ার পক্ষে রায় কাতালোনিয়ার

Catalonia

Cataloniaআকাশ২৪ ডেস্কঃ স্পেন থেকে স্বাধীন হওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে দেশটির স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্ট। শুক্রবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৭০ জন স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১০টি। দুটি ব্যালট ফাঁকা ছিল। তবে বিরোধী দলের এমপিরা ভোটাভুটিতে অংশ নেননি। ভোটাভুটির আগে আগে তারা পার্লামেন্ট থেকে ওয়াক আউট করেন।
কাতালোনিয়ার পার্লামেন্টে যে প্রস্তাবটির প্রশ্নে ভোটাভুটি হয়েছে সেখানে লেখা ছিল: ‘আমরা কাতালোনিয়া প্রজাতন্ত্রকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক ও সামাজিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলব।’
প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর বার্সেলোনায় পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হওয়া স্বাধীনতাপন্থীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। তবে ভিন্ন পরিস্থিতি দেখা গেছে মাদ্রিদে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্প্যানিশ সরকার যখন কাতালোনিয়ার ওপর সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে তখনই আঞ্চলিক পার্লামেন্ট এ রায় দিল। শুক্রবার স্প্যানিশ সিনেটে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাতালোনিয়ায় সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সিনেটরদের প্রতি আহ্বান জানান স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয়। কেবল তাই নয়, কাতালোনিয়ার নেতা কার্লেস পুজদেমন, তার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কাতালোনিয়ার সকল আঞ্চলিক মন্ত্রীদেরকে অপসারিত করতে চান বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, স্প্যানিশ সংবিধানের ১৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংকটকালীন সময়ে একটি অঞ্চলকে পরিচালনা করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। তবে এই ১৫৫ ধারা প্রয়োগ করা হবে কিনা সেই প্রশ্নে এখনও স্পেনের সিনেটে ভোটাভুটি হয়নি। সিনেটরদের ১৫৫ ধারা প্রয়োগের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্যই আহ্বান জানিয়েছেন রাজয়।
রাজয়ের মতে, কাতালোনিয়ায় ‘আইনের শাসন,গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা’ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন এবং এর কোনও বিকল্প নেই। তার অভিযোগ, কাতালোনিয়ার সরকার পরিবারগুলোকে এবং সমাজকে বিভক্ত করছে। এর মধ্য দিয়ে কাতালোনিয়ার রাজস্ব,পুলিশ ও সরকারি মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে মাদ্রিদ সরকার।
উল্লেখ্য,স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার জন্য ১ অক্টোবর গণভোট আয়োজন করে কাতালোনিয়া। গণভোটে ৯০ শতাংশ মানুষ কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে কাতালোনিয়ারা নেতাদের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের চাপে পুইজমেন্ট সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে সরে এসে আলোচনার আহ্বান জানান। তবে,স্বাধীনতাকামীদের এ গণভোটকে স্পেনের সরকার বেআইনি ঘোষণা করে।

ঢাকায় কি বার্তা দিলেন সুষমা স্বরাজ

ঢাকায় কি করবেন সুষমা স্বরাজ

ঢাকায় কি করবেন সুষমা স্বরাজআকাশ২৪ ডেস্কঃ ঢাকায় সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন,  আমরা চাই নিরাপদে রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যাক। এ সঙ্কট নিরসনে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন দেখতে চায় ভারত।
রোববার (২২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
সুষমা বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের চ্যালেঞ্জগুলো একই। সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থী ও মৌলবাদিতা দুই দেশের চ্যালেঞ্জ। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের নেওয়া জিরো টলারেন্স নীতির সঙ্গে আমরাও একমত হয়েছি।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে ভারত যেনো মিয়ানমারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করে সেজন্য আমারা অনুরোধ জানিয়েছি।
‘ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ-ভারত প্রতিবেশী দেশ, দুই দেশই পরস্পরের বিশ্বস্ত বন্ধু।’
বৈঠকে সুষমা স্বরাজকে এএইচ মাহমুদ আলী স্মরণ করিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, তার আমলেই তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন হবে। 

সোমালিয়ায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক। নিহত বেড়ে ২৭৬

Somalia

Somaliaআকাশ২৪ ডেস্কঃ শনিবার সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে ঘটে যাওয়া বোমা বিস্ফোরনে নিহতদের স্মরনে  রবিবার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহি মোহাম্মাদ ফার্মাজো। তিনি বলেন, ‘নিরাপরাধ মানুষের মৃত্যুতে আমার তিন দিনের শোক পালন করব, জাতীয় পতাকা অর্ধনিমিত রাখা হবে। এখন সময় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং একত্রে প্রার্থনা করার। সন্ত্রাসীরা কখন জিততে পারবে না। ’ টুইটারে দেওয়া ওই ঘোষণায় তিনি আহতদের এবং নিহতদের পরিবারকে সহযোগিতা করতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।

শনিবারের ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলায় নিহত বেড়ে অন্তত ২৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে আহত হয়েছে তিন শতাধিক লোক। দেশটির তথ্যমন্ত্রীর বরাত দিয়ে আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে। মোগাদিসুর একটি অভিজাত হোটেলের প্রবেশপথে প্রথমটি এবং মেদিনা এলাকায় অপর বোমা হামলাটি চালানো হয়। 

স্থানীয় পুলিশ বলছে, সরকারি বিভিন্ন ভবন সংলগ্ন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সাফারি হোটেলের প্রবেশপথে প্রথমে একটি লরিতে ভরে আনা বোমার বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। এতে হোটেলটির একাংশ ধসে পড়ে। ধসে যায় পাশের কয়েকটি ভবনও। আগুন ধরে যায় আশপাশের গাড়িগুলোতে। পুরো রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে বিধ্বস্ত ভবন ও গাড়ির খণ্ডাংশ।এরপর চার বন্দুকধারীর প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে ঢুকতে চাইলে তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবিনিময় শুরু হয়। বেশ কিছু সময় ধরে চলে মুহুর্মূহু গুলিবিনিময়। এসময় ঘটনাস্থলেই বেশ কিছু লোক নিহত হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যায় আরও কিছু লোক। হামলার পর পুরো রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে বিধ্বস্ত ভবন ও গাড়ির খণ্ডাংশ। এখানে-সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় মরদেহ। আহতদের রোনাজারিতে পুরো মোগাদিসুর আকাশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, বোমা-গুলিতে যেমন মানুষ মরেছে, তেমনি ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়েও মৃত্যু হয়েছে অনেকের। সাফারি হোটেলে হামলার দু’ঘণ্টা পর রাজধানীর উপকণ্ঠের মেদিনা এলাকায় আরেকটি গাড়ি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে মারা যায় আরও বেশ কিছু লোক। 

২০০৭ সালে বিদ্রোহ শুরু করার পর থেকে এটি দেশটিতে চালানো অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা। এ দুটি হামলায় বহু লোক আহত হয়েছে। কারা এই হামলা চালিয়েছে তা পরিষ্কার নয়।দেশটির সরকারের সঙ্গে যুদ্ধরত আল শাবাব নিয়মিত বিরতিতে রাজধানীতে হামলা চালিয়ে থাকে।জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়েদার সঙ্গে আশ শাবাবের সম্পর্ক আছে বলে দেশটির সরকার দাবি করছে।

আচরনগত অর্থনীতির তাত্ত্বিকের হাতে অর্থনীতির নোবেল

richardthaler

richardthalerআকাশ২৪ ডেস্কঃ বিশ্বব্যপী আচরনগত অর্থনীতির তাত্ত্বিক শিকাগো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রিচার্ড এইচ থেলার এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন। । অর্থনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য সোমবার সুইডেনের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
সুইডিশ একাডেমির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিহ্যাভিয়রাল ইকোনমিকস বা আচরণগত অর্থনীতিতে অনন্য অবদানের জন্য থ্যালারকে এবার অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে।
৭২ বছর বয়সী থ্যালার বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো ও বুথ স্কুল অব বিজনেসের আচরণগত বিজ্ঞান ও অর্থনীতির অধ্যাপক। ২০০৮ সালের এপ্রিলে হার্ভার্ড ল স্কুলের অধ্যাপক কাস আর সানস্টেইনের সঙ্গে ‘নাজ’ নামে যৌথভাবে একটি বই লিখে জনপ্রিয়তা লাভ করেন থ্যালার। এই বইয়ের মাধ্যমেই পরিচিতি পায় তার ‘আচরণগত অর্থনীতি’ তত্ত্ব।
দ্য গার্ডিয়ান জানায়, এবার অর্থনীতিতে সম্ভাব্য নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে ছিলেন ভারতের সাবেক গভর্নর রঘুরাম রাজন ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন অর্থনীতিবিদ।
১৯৬৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। এক বছর পর ১৯৬৯ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৭৯ জন অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন।
গতবছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ অলিভার হার্ট এবং এমআইটি’র অর্থনীতিবিদ বেঙ্গিত হমস্ট্রম। চুক্তি তত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

শান্তিতে নোবেল পেল আইক্যান

Noble Prize-2017

Noble Prize-2017আকাশ২৪ ডেস্কঃ বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে নিরন্তর প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছে পরমাণু অস্ত্রমুক্তির আন্তর্জাতিক প্রচারণা জোট ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইক্যান)। নোবেল কমিটির শান্তি পুরস্কার ঘোষনায় সব ধারণা-জল্পনার অবসান ঘটলো। নোবেল শান্তি পুরস্কার কে পাচ্ছে এই নিয়ে সোস্যাল মিডিয়াসহ নানানভাবে আলোচনা ছিল তুঙ্গে ।

নরওয়ের রাজধানী অসলোতে আজ শুক্রবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় বিজয়ী হিসেবে সংস্থাটির নাম ঘোষণা করে নোবেল কমিটি ।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির প্রেসিডেন্ট বেরিট রেইস-অ্যান্ডারসন বলেন, যেকোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার মানবিক যে বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনে তার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণে সংস্থাটির কাজের জন্য এবং এ ধরনের অস্ত্রের বিরুদ্ধে একটি চুক্তি-ভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে উদ্ভাবনীমূলক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে সংস্থাটি এই পুরস্কার পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা এমন একটি বিশ্বে বাস করছি, যেখানে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বিগত বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের হুমকির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বিশ্বের পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোকে এই অস্ত্র ক্রমেই বিলুপ্ত করতে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

পুরস্কার বাবদ একটি সোনার পদক ও ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (১১ লাখ ডলার) পাবে ইকান। আগামী ১০ ডিসেম্বর অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

১০ বছর আগে ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে গঠিত এই জোটের বর্তমান নির্বাহী পরিচালক বিয়াট্রিস ফিন, আর সমন্বয়ক ডানিয়েল হোগস্টা। ১০১টি দেশে ৪৬৮ অংশীদার সংগঠনকে নিয়ে কাজ করা ইকানের বর্তমান সদরদফতর জেনেভায়।

চলতি বছরের জুলাইয়ে পরমাণু যুদ্ধাস্ত্র মুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধের আইনগত বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন (নিরস্ত্রীকরণ) জাতিসংঘের যে চুক্তিটি ১২২ দেশের সম্মতিতে পাস হয়েছে, তা প্রস্তুত করতে এবং বাস্তবায়নে ইকানের ভূমিকা যুগান্তকারী। অবশ্য চুক্তিটি কার্যকরে ৫০ দেশের অনসুমর্থন প্রয়োজন হলেও পাওয়া গেছে মাত্র ৩ দেশের। ৫৩টি দেশ চুক্তিতে সই করলেও তা পর্যন্ত করেনি পরমাণু শক্তিধর ৯ দেশের কেউই।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ৩১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে খুব বেশি আলোচনায় ছিল না ইকান। 

জল্পনা ছিল ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস ও জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেলের মতো ব্যক্তিত্বদের ঘিরে। আলোচনায় ছিল জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর), আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন, গাম্বিয়ায় শান্তি স্থাপনে ভূমিকা পালনকারী আঞ্চলিক জোট ইকোনমিক কমিউনিটি অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস (ইকোওয়াস), যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় হতাহতদের উদ্ধারে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হোয়াইট হেলমেটস, আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাবের মতো সংগঠনগুলোও। শেষ পর্যন্ত সবাইকে ছাপিয়ে ইকান পেয়ে গেলো তাদের পরমাণু অস্ত্রমুক্তির আন্দোলনের স্বীকৃতি।

গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট  হুয়ান মানুয়েল সান্তোস। স্বদেশে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা ও ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য তাকে সেই পুরস্কার দেওয়া হয়।

মুকুট খোয়লেন মিয়ানমার সুন্দরী

Shwe Eain Si

সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজকরা রোববার ১৯ বছর বয়সী ‘মিস গ্রান্ড মিয়ানমার’ শোয়ে ইয়ান সি’র খেতাব প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

বিবিসি জানায়, গত সপ্তাহে সি অনলাইনে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি রাখাইনের সহিংস পরিস্থিতির জন্য রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করে বলেন, সুন্দরী প্রতিযোগিতার একজন প্রতিযোগী হিসেবে তার দায়িত্ব শান্তির পক্ষে কথা বলা।

ভিডিওতে সি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে ঘটে যাওয়া সহিংসতা সম্পর্ক সাধারণ মানুষ আমার মতামত জানতে চায় বলেই আমি নিজের দায়িত্ববোধ থেকে এ ভিডিও পোস্ট করেছি।”

ভিডিওতে সি আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকে (এআরএসএ) ইসলামপন্থি সম্প্রসারণবাদী আন্দোলনের দল আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা প্রতারণা করে আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যম ও সুশীল সমাজের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে।

সি আরও বলেন, “এআরএসএ সেনাদের ওপর খেলাফত-স্টাইলে কল্পনাতীত হামলা চালিয়েছে। অথচ তারা ও তাদের মিত্ররা বিষয়টি এমনভাবে প্রচার করছে যেন মনে হচ্ছে উল্টো তারাই নিপীড়িত হচ্ছে।”

তবে প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন সি। তিনি বলেন, “আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে এসে প্রকৃত পরিস্থিতি দেখে যাওয়ার আহবান জানাচ্ছি।’

ভিডিওতে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নিপীড়ন এবং রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিয়ে কোনও কথা বলা হয়নি।

আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজকরা সি’এর ভিডিওর বিষয়ে কিছু উল্লেখ না করে বলছে, “সি সুন্দরী প্রতিযোগিতার নিয়ম ভঙ্গ করেছেন এবং তার ব্যবহার একজন রোল মডেলের মত নয়।”

সেকারণে আগামী ৫ থেকে ২৬ অক্টোবর ভিয়েতনামে অনুষ্ঠেয় মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ২০১৭ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন না তিনি। কারণ, এ সুন্দরী প্রতিযোগিতার লক্ষ্য হচ্ছে যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কারেও তিন মার্কিন

2017 Physics Nobel

2017 Physics Nobelআকাশ২৪ ডেস্কঃ চিকিৎসার পর পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কারও এবার তিন মার্কিন বিজ্ঞানীর হাতে উঠেছে। তাঁরা হলেন রেইনার ওয়েইজ, ব্যারি সি ব্যারিশ ও কিপ এস থ্রোন। মহাকর্ষ তরঙ্গ আবিষ্কারের জন্য আজ মঙ্গলবার এই তিন মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানীকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

১৯১৫ সালে সাধারণ অপেক্ষবাদের তত্ত্ব নিয়ে কাজ করার সময় এমন একটি তরঙ্গের কথা অনুমান করেছিলেন আইনস্টাইন, যা স্থান-কালকে বাঁকিয়ে দেয়। কিন্তু এর পর বহু বছর কেটে গেলেও এমন কোনো তরঙ্গের প্রমাণ পাননি বিজ্ঞানীরা। অবশেষে ২০১৫ সালে স্বরূপে ধরা দিল মহাকর্ষ তরঙ্গ। মহাকাশে স্থান-কালের কল্পিত বুনটে এ মৃদু তরঙ্গ বিরাজ করে। নক্ষত্রপুঞ্জের মৃত্যু কিংবা দুটি কৃষ্ণগহ্বরের মধ্যে সংঘর্ষের মতো ঘটনা থেকে এ তরঙ্গের সৃষ্টি।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো মহাকর্ষ তরঙ্গের পর্যবেক্ষণ করেন কিপ থ্রোন ও রেইনার ওয়েইজ। এ তরঙ্গ পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁরা ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (ক্যালটেক) একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু করেন। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন আরেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী ব্যারি ব্যারিশ। লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশন্যাল-ওয়েভ অবজারভেটরি (লিগো) নামে নিজেদের তৈরি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে তাঁরা প্রথমবারের মতো মহাকর্ষ তরঙ্গ প্রত্যক্ষ করেন, যা ছিল পৃথিবী থেকে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে। তবে এ বিষয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি দেন গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে।

আবিষ্কারের পর থেকেই এই তিন বিজ্ঞানী সম্ভাব্য সব ধরনের পুরস্কার নিজেদের ঝুলিতে ভরেছেন। আর আজ এর সঙ্গে যুক্ত হলো নোবেল পুরস্কারও। এ বিষয়ে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইডিশ রয়াল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণার সময় মহাকর্ষ তরঙ্গ আবিষ্কারের ঘটনাকে ‘যুগান্তকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে একে ‘পৃথিবী কাঁপিয়ে দেওয়া আবিষ্কার’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে নোবেল কমিটি।

*চিকিৎসার পর পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পেলেন তিন মার্কিনি।
*মহাকর্ষ তরঙ্গ আবিষ্কারের জন্য এবারের নোবেল। *তিন বিজ্ঞানী হলেন রেইনার ওয়েইজ, ব্যারি সি ব্যারিশ ও কিপ এস থ্রোন।
*১৯১৫ সালে আইনস্টাইন এমন একটি তরঙ্গের কথা অনুমান করেছিলেন।
*২০১৫ সালে স্বরূপে ধরা দেয় মহাকর্ষ তরঙ্গ। নক্ষত্রপুঞ্জের মৃত্যু কিংবা দুটি কৃষ্ণগহ্বরের মধ্যে সংঘর্ষ থেকে এ তরঙ্গের সৃষ্টি।
*মহাকর্ষ তরঙ্গ নিয়ে ১৯৭০ সালেই গবেষণা শুরু করেন রেইনার ওয়েইজ। তাই পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার অর্ধেক পাবেন তিনি। বাকিটা কিপ থর্ন ও ব্যারি বারিশ ভাগ করে নেবেন।

নোবেল কমিটির ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘যে তরঙ্গ ধরা পড়েছিল, তা ছিল অনেক দুর্বল। কিন্তু এ তরঙ্গ শনাক্তের ঘটনা জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য বৈপ্লবিক। মহাকাশে ঘটে চলা বিভিন্ন ঘটনার দিকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে আলো ফেলার এক ক্ষেত্র তৈরি করেছে এ আবিষ্কার। এটি আমাদের জ্ঞানের সীমা সম্পর্কে জানতেও সহায়তা করবে।’

রীতি অনুযায়ী আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে তিন বিজ্ঞানীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (১১ লাখ ডলার) অর্ধেক পাবেন রেইনার ওয়েইজ। বাকিটা কিপ থর্ন ও ব্যারি বারিশ ভাগ করে নেবেন।

নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, মহাকর্ষ তরঙ্গ নিয়ে ১৯৭০ সালেই গবেষণা শুরু করেন রেইনার ওয়েইজ। সে সময়ই তিনি লেজারভিত্তিক একটি ইন্টারফেরোমিটার তৈরি করেন। আর লিগো পর্যবেক্ষণকেন্দ্রটি স্থাপনের কাজ শুরু হয় আজ থেকে ৫০ বছর আগে। ২০ টিরও বেশি দেশের এক হাজার বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। রেইনার ওয়েইজ, কিপ এস থ্রোন ও ব্যারি সি ব্যারিশ এ প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা ও বাস্তব রূপায়ণকারী। আর এ কারণেই তাঁদের এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে বলে নোবেল কমিটি জানিয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর এ পর্যন্ত তিনবার মহাকর্ষ তরঙ্গ ধরা দিয়েছে। এর মধ্যে দুইবার লিগোর মাধ্যমে। আর একবার ইতালির ইউরোপীয় মহাকর্ষ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (ইগো) ভারগো ডিটেক্টরের মাধ্যমে এ তরঙ্গ ধরা পড়ে।

নোবেল কমিটির ঘোষণায় বলা হয়, ‘আইনস্টাইন যেমনটা বলেছিলেন, ঠিক সে রকমভাবেই মহাকর্ষ তরঙ্গ আলোর গতিতে মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দুটি কৃষ্ণগহ্বরের পারস্পরিক আবর্তন কিংবা এমন কোনো ঘটনায় যখনই কোনো ভর গতিশীল হয়, তখনই এ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। এ তরঙ্গ স্থানকে (স্পেস) ক্রমাগত সংকুচিত ও প্রসারিত করে। এ তরঙ্গের ফলে সৃষ্ট শব্দ শোনা সম্ভব হলে পুরো মহাবিশ্বকেই সাংগীতিক বলে মনে হবে।’

প্রসঙ্গত, গতকাল চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয়। দেহঘড়ির অস্তিত্বের প্রমাণ দিয়ে গতকাল এ পুরস্কার জিতে নেন তিন মার্কিন জিনবিজ্ঞানী। আর আজ পদার্থবিজ্ঞানে নাম উঠে এল আরও তিন মার্কিনির। এ নিয়ে এ বছরের নোবেল পুরস্কারের প্রথম দুদিন আমেরিকার হয়েই থাকল। আগামীকাল বুধবার ঘোষণা করা হবে রসায়নে নোবেল বিজয়ীর নাম।

গত বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তিন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ডেভিড থলেস, ডানকান হ্যালডেন ও মাইকেল কস্টারলিটজ।

সু চির মন্ত্রীর সাথে বৈঠক চলছে পদ্মায়

কিউ টিন্ট সোয়ে

কিউ টিন্ট সোয়েআকাশ২৪ ডেস্কঃ মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিউ টিন্ট সোয়ে এখন ঢাকায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ এম মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় । আজ সোমবার বেলা ১১টায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে দু’নেতার এ বৈঠক শুরু হয়।   

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চলমান রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও কিয়াও তিন্ত সোয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা করবেন।এর আগে গতকাল রোববার দিনগত রাত ১টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ বিমানে সোয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, জুলাই মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তাকে (কিউ টিন্ট সোয়ে) ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান। এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে কিউ টিন্ট সোয়ে রোববার রাতে ঢাকায় এসেছেন।মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এ নিয়ে সু চি’র ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার কারণে সু চি তার মন্ত্রী কিউ টিন্ট সোয়েকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন বলে সূত্রে জানা যায়।গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। রাখাইনে পুলিশের ৩০টি তল্লাশি চৌকি ও একটি সেনাক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলায় ১২ পুলিশ নিহত হওয়ার পর ওই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।এর আগে গেলো বছরের ৯ অক্টোবরের পর থেকে মিয়ানমারের আরকান রাজ্যে একইভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা। এরপর আন্তর্জাতিক মহল নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে মিয়ানমার সরকারের ওপর। কিন্তু এর কোনো তোয়াক্কা না করে আরকানে ফের সেনা মোতায়েন করে নির্যাতন শুরু করে তারা।

কুরআন জব্দ করছে চীন, অন্যথায় শাস্তি

Quran, China

Quran, Chinaআকাশ২৪ ডেস্কঃ চীনে মুসলমানদের কাছে থাকা কুরআন শরিফ এবং জায়নামাজ সরকারের কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অন্যথায় শাস্তি দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে বলে গণমাধমের খবরে বলা হয়েছে।

একজন নির্বাসিত নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, জিনজিয়াং প্রদেশের কর্মকর্তারা সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষজনকে সব রকমের ধর্মীয় জিনিসপত্র জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায় তাদেরকে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার হুমকি দেয়া হয়।

ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসের নির্বাসিত নেতা দিলসাত রাক্ষিত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সম্প্রচারিত রেডিও ফ্রি এশিয়াকে জানান, আমরা একটি সতর্কতা পেয়েছি, যেখানে বলা হয়েছে প্রত্যেক উইঘুর মুসলমানের ঘরে থাকা ধর্মীয় সামগ্রী সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। কুরআন শরিফসহ, নামাজ আদায়ের বিছানা এমনকি ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবকিছু জমা দিতে বলা হয়েছে।

ওই রেডিও চ্যানেলে আরও জানানো হয়েছে, কাজাখ ও কিরগিজ মুসলিমদেরও একই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছে চীন। সরকারের এই নির্দেশনা প্রচার করা হয়েছে চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইচ্যাটের মাধ্যমে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, চীনে ২০১৬ ও ২০১৭ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী বেইজংয়ের কম্যুনিস্ট সরকার উইঘুর সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার বন্ধ করে দিয়েছে। উইঘুরদের সব ধরনের ধর্মীয় উৎসব পালন থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি এই সম্প্রদায়ের লেখকদেরও গ্রেফতার করেছে।

২০০৯ সালে উইঘুর মুসলিমদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছে চীনের হান সম্প্রদায়। ওই সহিংসতায় কয়েক শ’ মুসলিম উইঘুর নিহত হন।

বেইজিংয়ের অভিযোগ, ইসলামি চরমপন্থীদের কারণে এলাকাটি সহিংসতাপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, উইঘুরদের দমনের জন্য সহিংসতা চালু রাখাটা চীন সরকারের পলিসি। সন্ত্রাসী থাকার অজুহাতে উইঘুরদের এলাকায় চীনের সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে কয়েক বছরে বহু উইঘুর মুসলমানকে হত্যা করেছে।

উইঘুর সম্পদ্রায়ের দাবি, ১৯৪৯ সাল থেকে তারা চীনের নিপীড়নের শিকার। চীন অবৈধভাবে তাদেরকে একপ্রকার দাস বানিয়ে রেখেছে।

তবে চীনের দাবি, বোমা হামলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পেতে তাদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে আটকে দেয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে সরকারের কাছে মুসলিমদের ধর্মীয় সামগ্রী জমা দেয়ার নির্দেশকে গুজব আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে উইঘুরের পরিবেশ শান্ত থাকারও দাবি করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সূত্র : ইন্ডিপেনডেন্ট

এবার অক্সফোর্ড থেকে সরে গেল সূচী

আকাশ২৪ ডেস্কঃ এবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরে গেল অং সান সু চির একটি প্রতিকৃতি । সু চির প্রতিকৃতির জায়গায় একটি জাপানি চিত্রকর্ম বসানোর কথা জানিয়েছে অক্সফোর্ডের সেন্ট হিউ কলেজ কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সেন্ট হিউ কলেজের সাবেক ছাত্রী সু চির ওই প্রতিকৃতি কলেজটির মূল ভবনের প্রবেশদ্বারে ছিল। তবে তার প্রতিকৃতি কেন সরানো হল সে বিষয়টি স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ।

কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা বেঞ্জামিন জোনস বলেছেন, সু চির প্রতিকৃতি একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে জাপানি চিত্রশিল্পী ইয়োশিহিরো তাকাদার চিত্রকর্ম ‘একটি সময়ের জন্য’ প্রদর্শিত হবে।

প্রসঙ্গত, সেন্ট হিউ কলেজ থেকে ১৯৬৭ সালে স্নাতক ডিগ্রি নেন সু চি। তার স্বামী ড. মাইকেল অ্যারিস এক সময় ওই কলেজে শিক্ষকতাও করেছেন। সু চি গৃহবন্দি হওয়ার পর ১৯৯৩ সালে তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট দেয় অক্সফোর্ড। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ওই ডিগ্রি গ্রহণ করেন।

রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চির সমালোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে। 
এর জের ধরে যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম ট্রেড ইউনিয়ন- ইউনিসন গত সপ্তাহে তাকে দেওয়া সম্মাননা স্থগিত করে।