তাসকিনের বিয়েতে লাখো তরুণীর স্বপ্ন ভঙ্গ

তাসকিনের বিয়ে

তাসকিনের বিয়েআকাশ২৪ রিপোর্টঃ বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এখন লাখো কোটি তরুণীদের স্বপ্ন পুরুষ। নিজের অজান্তেই বর্ণিল স্বপ্নের জাল বুনে চলেছে এই তুরুণীরা। কারো কারো ভাগ্যে সেই স্বপ্নের মানুষ ধরা দিচ্ছে আবার কারো অধরায় থেকে যাচ্ছে। সবশেষে তাসকিনের বিয়ের খবরে ফেইসবুকে রীতিমত ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এখনো কোন খারাপ খবর পাওয়া না গেলেও না পাওয়ার বেদনার ছাপ তরুণীদের স্ট্যাটাসে স্পষ্ট। 

গতকাল মঙ্গলবার রাতে অনেকটা গোপনেই বিয়ে হয়ে গেল তাসকিনের। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা সৈয়দা রাবেয়া নাঈমার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন তিনি। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নাঈমা আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) অর্থনীতিতে স্নাতকের শিক্ষার্থী। তাসকিনও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তাঁর বাবা আবদুর রশিদ অবশ্য জানান, তাসকিন দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার আগেই বিয়ের সব কিছু গুছিয়ে গিয়েছিলেন। তাসকিন আর রাবেয়া একে অপরকে পছন্দ করেন। গত বছর তাদের বাগদানও হয়েছে। বিপিএলের আগে তাসকিনকে চিটাগং ভাইকিংস দলে যোগ দিতে হবে। তাই দ্রুত বিয়ের কাজটা শেষ করতে হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগেই বিয়ের দিনক্ষন ঠিক করা হয় বলে জানা গেছে।  তিনি বলেন, আপাতত কাছের মানুষজন ছাড়া কাউকে জানানো হয়নি। সামনে সময় বের করে অনেক বড় অনুষ্ঠান করা হবে। জানা গেছে, বিয়েতে সতীর্থদের দাওয়াত করেছেন তাসকিন। বিপিএল নিয়ে ব্যস্ততা থাকায় বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই উপস্থিত হতে পারেননি অনুষ্ঠানে। তবে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

ইতোমধ্যে তাসকিন ও তার নববধূ্ নাঈমার বেশ কয়েকটি ছবি ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে।   

শেষ পর্যন্ত মাশরাফির ইচ্ছে পূরণ হলো

Radio Edge

Radio Edgeআকাশ২৪ ডেস্কঃ শেষ পর্যন্ত মাশরাফির ইচ্ছে পূরণ হলো। ক্রিকেটার হিসেবে বেড় ওঠার দিনগুলোতে ভাবতেন দেশে যদি শুধুমাত্র খেলার কোনো চ্যানেল বা রেডিও থাকতো, তাহলে ভালো হতো। খেলাধুলা ভিত্তিক বেতার ‘রেডিও এজ’ চালু হয়েছে। উদ্বোধনের দিন মাশরাফি নিজে উপস্থিত ছিলেন।
কেক কাটার মধ্যে দিয়ে সম্প্রচার শুরু বিশেষায়িত রেডিও স্টেশনটির। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম, সাউথ এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত, রেডিও এজ-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাফকাত সামিউর রহমান, পরিচালক আশিক আহমেদ ও মির্জা শিবলী।
মাশরাফি বলেন, ‘আমরা খেলোয়াড় হিসেবে সবসময় চেয়েছি শুধুমাত্র ক্রীড়াজগত নিয়ে একটি চ্যানেল হোক। সেই চাওয়া আজ পূরণ হলো। রেডিও এজের মাধ্যমে সেই যাত্রা শুরু হলো। সামনে হয়তো টিভি চ্যানেলও চলে আসবে। শুধুমাত্র খেলার সংবাদ নিয়ে চ্যানেল হলে খেলোয়াড়রা উৎসাহিত হবে।
মামুনুল ইসলাম বলেন,‘বাংলাদেশের ক্রীড়াজগতকে উৎসাহিত করার জন্য কোনো বিশেষায়িত মিডিয়া ছিল না। রেডিও এজের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলো। আশা করি, ধীরে ধীরে অনেক ক্রীড়া চ্যানেল হবে।’
মাবিয়া বলেন, ‘খেলাধুলা নিয়ে রেডিও স্টেশন হয়েছে। এখানে খেলাধুলার ইতিহাস নিয়ে আলোচনা হবে। একটা সময় সব কিছুই দলিল হয়ে থাকবে। শুধু নতুনদের নিয়েই নয়, পুরনো খেলোয়াড়দের যেন আনা যায়।’

ট্যাবলেট বিতর্কে মেসি

ট্যাবলেট বিতর্কে মেসি

ট্যাবলেট বিতর্কে মেসিআকাশ২৪ ডেস্কঃ মেসিকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে সারা বিশ্বে। অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলছিল মেসি। ৩-১ গোলে জয়ও পেয়েছে বার্সেলোনা। এ ম্যাচে শততম ইউরোপিয়ান গোল করেছেন সময়ের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। ম্যাচের প্রথমার্ধেই নিজের মোজায় রাখা একটি ট্যাবলেট সেবন করতে দেখা যায় মেসিকে। প্রথমে সবার নজরে না এলেও পরে তা ভিডিওতে ধরা পড়ে। এ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে মাঠে মেসি কোনো নিষিদ্ধ ওষুধ সেবন করেননি বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা ডেইলি মেইল। ম্যাচের ১০ মিনিটে নিজের মোজা থেকে একটি ওষুধ বের করেন মেসি এবং তা মুখে দিয়ে দেন। টিভি ক্যামেরায় যা শনাক্ত করা অসম্ভব। তবে স্প্যানিশ গণমাধ্যম স্পোর্তো দাবি করেছে, তারা এ রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছে। তাদের দাবি, মেসি মাঠে গ্লুকোজ ট্যাবলেট সেবন করেছিলেন; যা নিষিদ্ধ নয়। সাধারণত ক্লান্তি দূর করতেই এ ধরনের ওষুধ সেবন করা হয়। এ ওষুধ অ্যাথলেটরা নিয়মিতই নিয়ে থাকেন। তবে ম্যাচের আগে বা ওয়ার্মআপের পর এ ওষুধ তারা সেবন করে থাকেন। ম্যাচের মাঝে ওই ওষুধ সেবনের তেমন কোনো নজির নেই। ম্যাচের মাঝে এ ধরনের ওষুধ সেবনে কোনো বিধিনিষেধ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।

বার্সেলোনার কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দেকে গত কাল ম্যাচের পর এ নিয়ে জিজ্ঞেস করেন সাংবাদিকেরা। ভালভার্দে বলেন, ‘‘মেসি গ্লুকোজ পিল নিয়েছেনাকি। আমি তো কিছুই জানি না। এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারব না আমি। যদি বড়িটা নিয়ে ও গোল করে থাকে, আবার নেওয়া উচিত ওর। 

আর্জেন্টিনা বিরোধীদের মোবাইলে ব্লু হোয়াইল ইনস্টল হোক

আকাশ২৪ ডেস্কঃ আর্জেন্টিনা রাশিয়ার টিকেট পাওয়ায় আর্জেন্টিনা ভক্তদের জানে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সারা বিশ্বে চলছে আনন্দের অশ্রুধারা। এ যেন অন্যরকম বুকভরা ভালোবাসা। সেই ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে স্যোস্যাল মিডিয়া। নানাভাবে তারা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করছে। ফেইসবুক, টুইটার সহ নানা সাইটে চলছে কমেন্ট পাল্টা কমেন্ট। আর জি মিজান নামে এক ফেইসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন “ যারা ভেবেছিল আর্জেন্টিনার রাশিয়ায় যাওয়া হবে না তাদের মোবাইলে ব্লু হোয়াইল গেমটা ইনস্টল করে দেওয়া হোক।এই সমাজে তাদের প্রয়োজন নেই,, “। 

অপর এক ভক্ত লিখেছেন, সব কিছুর দায়িত্ব যেনো এই ছেলেটার, তবে যাই হোক তুমি বস বসই…. ,তোমাকে বার বার প্রমাণ করতে হবে না…। এভাবেই ভক্তরা তাদের আনন্দ বহিঃপ্রকাম করে।

বিশ্বকাপের টিকিট পাইয়ে দিলো মেসি

Lionel Messi

Lionel Messiআকাশ২৪ ডেস্কঃ আর্জেন্টিনাকে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফুটবলের টিকিট পাইয়ে দিলো মেসি। আর এর মাধ্যমে মেসি ভক্তরাসহ আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভাসছে পুরো ফুটবল বিশ্ব। কেননা, আর্জেন্টিনা আর মেসি ছাড়া বিশ্বকাপ ফুটবল ভাবায় যায়না। রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরু থেকেই কঠিন সময় পার করছে আর্জেন্টিনা। একের পর এক ম্যাচে ড্র করে রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট অনিশ্চিত করে ফেলেছিল সাম্পাউলির শিষ্যরা। আর সেই ধারাবাহিকতায় বাছাইপর্বে গত সপ্তাহের শেষ ম্যাচে পেরুর সঙ্গে ড্র করে শঙ্কাটা আরও বেড়ে যায়। পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে নেমে যায় মেসি বাহিনী। তবে শেষ পর্যন্ত অবশ্য ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়েছে দুবারের বিশ্বকাপজয়ীদের। অধিনায়ক মেসির দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকের সুবাদে ইকুয়েডরকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। দাপুটে এই জয় দিয়ে তারা নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার টিকেট।

ইকুয়েডরের মাঠে নামে শুরুতেই হোঁচট খায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শুরুর ৪০ সেকেন্ডের মধ্যেই পিছিয়ে যায় সাম্পাউলির শিষ্যরা। ইকুয়েডরের মিডফিল্ডার রোমারিও ইবাররার আর্জেন্টিনার গোলরক্ষককে কোনাকুনি শটে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন। আর তাতেই যেন জ্বলে ওঠেন মেসি। মেসির দুর্দান্ত নৈপুণ্যে সমতা ফেরাতে দেরি হয়নি আর্জেন্টিনার। বাঁয়ে আনহেল দি মারিয়ার বল বাড়িয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। বল ফেরত পেয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই বাঁ পায়ের টোকায় জালে পাঠান তিনি।
সমতায় ফেরানোর পর দলকে আবার এগিয়ে নেন জাদুকর মেসি। ডিফেন্ডারদের ভুলে বল পেয়ে যান তিনি। বল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডি-বক্সে ঢুকে উপরের বাঁ-কোন দিয়ে কোনাকুনি শটে জালে পাঠান পাঁচবারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার।
বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণাত্বক খেলতে থাকে ইকুয়েডর। কিন্তু বাঁচা-মরার ম্যাচে ছাড় দিতে নারাজ টিম আর্জেন্টিনা। তাইতো ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে মাপা লবে গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে আবারও বল জালে জড়ালেন মেসি, করে ফেললেন হ্যাট্রিক।

argentina qualified in russia worldcup footballভাগ্য নির্ধারনী এ ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশে মাঠে নামেন সার্জিও রোমেরো, গ্যাব্রিয়েল মারকাডো, হাভিয়ের মাশ্চেরানো, নিকোলাস ওটামেন্ডি, এদুয়ার্দো সালভিয়ো, এনজো পেরেজ, লুকাস বিগলিয়া, মার্কোস একুনা, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, দারিয়ো বেনেদেতো এবং লিওনেল মেসি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কিটোর ২ হাজার ৮৫০ মিটার উচ্চতায় কিটোর এই মাঠে আর্জেন্টিনার অতীত পারফরম্যান্সও খুব একটা সুখকর ছিল না। ২০০১ সালের পর থেকে সেখানে ইকুয়েডরকে হারাতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

সমর্থকদের অনেক দুশ্চিন্তায় রাখলেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ভালোভাবেই পেরিয়ে গেছে বাছাইপর্বের বাধা। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ব্রাজিল তো অনেক আগেই পেয়ে গিয়েছিল বিশ্বকাপের টিকেট। আর্জেন্টিনাও শেষপর্যন্ত তৃতীয় স্থান দখল করে যোগ দিয়েছে ব্রাজিলের সঙ্গে। দ্বিতীয় ও চতুর্থ স্থানের দখল আছে উরুগুয়ে ও কলম্বিয়ার কাছে। এ চার দলই পেয়ে গেছে রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকেট। আর পঞ্চম স্থানে থাকা চিলিকে খেলতে হবে মহাদেশীয় প্লে-অফ।

পুরুষের ক্রিকেটে নারী আম্প্যায়ার

Claire Polosak

Claire Polosak আকাশ২৪ ডেস্কঃ পুরুষদের ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো নারী আম্পায়ার হচ্ছেন ক্ল্যাইয়ার পোলোস্যাক।। এরই সঙ্গে রের্কড গড়তে চলেছেন অস্ট্রেলিয়ার গোউলবার্নের এই নারী।
অস্ট্রেলিয়ান ঘরোয়া লিগ জিএলটি ওয়ানডে কাপে নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের ম্যাচে আম্পায়ারের দ্বায়িত্বে থাকছেন তিনি।
৮ অক্টোবর সিডনির হার্স্টভিল ওভালের ওই ম্যাচে তার সঙ্গে থাকছেন আম্পায়ার পল উইলসন। ম্যাচে এনএসডব্লিউ’র হয়ে খেলবেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক।
ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসার কারণেই খেলতে না পেরেও হাইস্কুলে থাকতে প্রথমবারের মতো আম্পায়ার হিসেবে মাঠে ক্ল্যারি। সেই থেকে শুরু চলতি বছরের নারী বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন ।
ক্ল্যারি বলেন, আমি ক্রিকেট না খেলা সত্ত্বেও আম্পায়ার হয়েছি বলে অনেকেই অবাক হয়। তবে আমি সবসময় ক্রিকেট খেলা দেখতাম।
আমার বাবা গাড়ি চালিয়ে আম্পায়ারিং কোর্স করতে নিয়ে যেতেন। বাবা-মায়ের উৎসাহেই আম্পায়ার হতে পেরেছি।
গেলো দু’বছর ধরে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ডেভেলপমেন্ট আম্পায়ার প্যানেলে আছেন ক্ল্যারি। এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় পুরুষদের ঘরোয়া ক্রিকেট ম্যাচে তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
এবার পুরুষদের ম্যাচে মাঠে নেমেই আম্পায়ার হিসেবে থাকবেন ২৯ বছরের এ নারী। এর পরেরবার হয়তো পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই দেখা যাবে তাকে।

সাকিবকে ছাড়া কেমন করে বাংলাদেশ?

বাংলাদেশের ক্রিকেটের ধ্রুবতারা সাকিব আল হাসান। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্ব দরবারে রাঙিয়ে তুলেছেন রংধনুর সাত রং-এ।

দক্ষিণ আফ্রিকার আদুরে নাম ‘রংধনুর দেশ’। অথচ রংধনুর দেশটিতে নেই ধ্রুবতারা সাকিব! সাদা পোশাকে পচেফস্ট্রুমে পুরো বাংলাদেশ যখন দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাইছিল, তখন ক্যামেরা খুঁজে ফিরছিল দেশের সেরা ক্রিকেট তারকাকে। কিন্তু সেখানে নেই চিরচেনা হাস্যোজ্জ্বল মুখটি। সাকিবকে পেলে ক্যানভাসটি পূর্ণ রূপ পেত তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

টেস্ট থেকে ছয় মাসের ছুটি চাওয়া বাঁহাতি অলরাউন্ডারকে দুই টেস্টের সিরিজে বিশ্রাম দিয়েছে বিসিবি। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে সাকিব খেলবেন না। প্রশ্ন একটাই সাকিবকে ছাড়া কেমন খেলে বাংলাদেশ?

২০০৭ সালে সাকিবের অভিষেক ভারতের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ পর্যন্ত ৫১ টেস্টে ৩ হাজার ৫৯৪ রান ও ১৮৮ উইকেট তার নামের পাশে। বলার অপেক্ষা রাখে না শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেটেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও এ অর্জন অসাধারণ তকমা পেয়েছে। সাকিবের অভিষেকের পর বাংলাদেশ খেলেছে ৫৮ টেস্ট। এর মধ্যে কেবল ৭টিতেই ছিলেন না সাকিব।

ভারতের বিপক্ষে অভিষেকের পর টানা দুই টেস্টে দলে ছিলেন সাকিব। প্রথম তিন টেস্টে আশানুরূপ পারফরম্যান্স না থাকায় শ্রীলঙ্কা সফরের শেষ দুই টেস্ট থেকে বাদ পড়েন। সেটাও ২০০৭ সালে। বছরের শেষ দিকে নিউজিল্যান্ড সফরে যায় বাংলাদেশ। বন্ধু তামিমের অভিষেক ম্যাচে সাকিব ছিলেন একাদশের বাইরে। তিন টেস্ট পর পারফরম্যান্সের কারণেই বাদ পড়েছিলেন আজকের সাকিব। তিন টেস্টে দলে থাকার মতো আহামরি কোনো পারফরম্যান্সই ছিল না। বল হাতে কোনো উইকেট পাননি, পাঁচ ইনিংসে রান করেছিলেন মাত্র ৯৬।

সাকিবের বাদ পড়ার পর যে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স পরিবর্তন হয়েছে, এমনটাও নয়। শ্রীলঙ্কায় দুই টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। একটি ইনিংসে তো বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল মাত্র ৬২ রানে! নিউজিল্যান্ডেও ভাগ্য পাল্টায়নি। সাকিবের না থাকার ম্যাচে বাংলাদেশ হারে ৯ উইকেটের ব্যবধানে। নিউজিল্যান্ডে দ্বিতীয় ম্যাচে এনামুল হক জুনিয়রের পরিবর্তে দলে আসেন সাকিব। দলে ফেরার পর আহামরি পারফরম্যান্স না করলেও দলে টিকে যান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সাকিবকে।

প্রথম তিন টেস্টের পর পারফরম্যান্সের কারণে বাদ পড়লেও পরের চার টেস্টে সাকিবের একাদশে না থাকার কারণ ভিন্ন।

২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে দলে ছিলেন না চোটের কারণে। গলে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ সাকিবকে ছাড়া কৃতিত্বপূর্ণ ড্র করে। ওই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিব ছিলেন না। বাংলাদেশ কলম্বোতে গিয়ে ম্যাচ হারে ৭ উইকেটে।

সাকিবকে ছাড়া ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যায় বাংলাদেশ। শৃঙ্খলাজনিত কারণে সাকিবকে ছয় মাস নিষিদ্ধ করে বোর্ড। নিষেধাজ্ঞার কারণে ইনফর্ম সাকিবকে ছাড়া খেলে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের ওই সফরের আগের সফরেই সাকিব সিরিজসেরা হয়ে ২-০ ব্যবধানে বাংলাদেশকে জিতিয়েছিলেন। পরের সফরে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারে। একটি ম্যাচে ১০ উইকেটে, আরেকটি ম্যাচে ২৯৬ রানে হারে বাংলাদেশ।

সব মিলিয়ে সাকিবের না থাকা ৭ ম্যাচের ৬টিতেই বড় ব্যবধানে হারতে হয় বাংলাদেশকে। ১টি ম্যাচ বাংলাদেশ ড্র করে। সেটা ২০১৩ সালে গলে। লঙ্কানদের করা ৪ উইকেটে ৫৭০ রানের জবাবে ৬৩৮ রান তোলে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হয়ে মুশফিকুর রহিম প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেন। মোহাম্মদ আশরাফুল ১৯০ এবং নাসির হোসেন ১০০ রান করেছিলেন। রান-বন্যার ম্যাচটি ড্র করে বাংলাদেশ।

সাকিব এবার নেই ব্যক্তিগত চাওয়ায়। রংধনুর দেশে গল ফিরে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার।

হাসি মুখে দিন শেষ করল শ্রীলঙ্কা

আবুধাবিতে দিনের শুরুটা ছিল পাকিস্তানের। কিন্তু শেষ দিকের প্রতিরোধে স্বস্তিতে শ্রীলঙ্কা। প্রথম টেস্টের প্রথম দিন ভাগাভাগি করেছে দুই দল।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ২২৭ রান তুলে দিন শেষ করেছে শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল ৬০ ও উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান নিরোশান ডিকভেলা ৪২ রানে অপরাজিত রয়েছেন। অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটিতে এ দুই ব্যাটসম্যান যোগ করেছেন ৬৬ রান।

দিনের শুরুতে দাপট দেখায় পাকিস্তান। প্রথম সেশনে লঙ্কানদের ৩ উইকেট তুলে নেয় সরফরাজ আহমেদের দল। পেসার হাসান আলী প্রথমে ব্রেক থ্রু এনে দেন। ১২ রানে বোল্ড হন কুশল সিলভা। দলীয় ৩৫ রানে লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহর বলে এলবিডব্লিউ হন লাহিরু থিরিমান্নে।

থিরিমান্নেকে ফিরিয়ে দ্রুততম স্পিনার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ১৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন ইয়াসির। বিরতির আগে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন কুশল মেন্ডিস। ইয়াসিরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ১০ রান করা মেন্ডিস।

চতুর্থ উইকেটে ১০০ রানের জুটি গড়েন দিমুথ করুনারত্নে ও দিনেশ চান্দিমাল। সেঞ্চুরির পথে ছিলেন লঙ্কান ওপেনার করুনারত্নে। কিন্তু সেঞ্চুরি থেকে ৭ রান দূরে থাকতে রানআউটের শিকার বাঁহাতি ওপেনার। মোহাম্মদ আব্বাসের থ্রোতে স্টাম্প ভাঙেন সরফরাজ আহমেদ।

দ্বিতীয় সেশনে ১ উইকেট হারানোর পর দিনের শেষ পর্যন্ত আর কোনো উইকেট হারায়নি লঙ্কানরা। চান্দিমাল ও ডিকভেলা দেখেশুনে খেলে ভালোভাবেই দিন শেষ করেন।

বাংলাদেশ-আফগান যুবাদের সবগুলো ম্যাচ সিলেটে

পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আগামীকাল সোমবার বাংলাদেশ সফরে আসছে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচ খেলবে আফগান যুবারা।

সিরিজের প্রথম চারটি ম্যাচ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা ছিল। আর পঞ্চম ও শেষ ম্যাচটি ৭ অক্টোবর হওয়ার কথা ছিল মিরপুরে। কিন্তু আজ রোববার রাতে বিসিবি এক ই-মেইল বার্তায় জানিয়েছে শেষ ম্যাচটিও হবে সিলেটে। যেহেতু আফগান যুবাদের ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে না, তাই শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি ৭ অক্টোবরের পরিবর্তে ৬ অক্টোবর হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান যুবাদের পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের সবগুলো ম্যাচই হবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার পর ২৬ সেপ্টেম্বর সিলেটে যাবে আফগানিস্তান যুব দল। ২৭ সেপ্টেম্বর অনুশীলন করবে তারা। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। একই ভেন্যুতে ৩০ সেপ্টেম্বর, ২, ৪ ও ৬ অক্টোবর আরো চারটি ম্যাচ খেলবে।

৮ অক্টোবর ঢাকা ছাড়বে আফগানিস্তান যুব দল।

আফগানিস্তান দল :
নাভীদ ওবায়িদ, ইব্রাহিম জাদরান, রহমানুল্লাহ গুরবাজ, দারওয়াইস আব্দুর রসুল, পারওয়াইজ মালিকজাই, তারিক স্টানিকজাই, ইকরাম আলী খেল, নিসারুল হক ওয়াদাত, ইমরান মোহাম্মাদি, শামস উর রহমান, ইউসুফ যাযাই, ওয়াফাদার মোমান্দ, কাইস আহমদ কামাওয়াল, নাভীন উল হক মুরাদ ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই।

কোচ : অ্যান্ডি মোলেস।