আজ কারবালার শোকাবহ পবিত্র আশুরা

Ashura

Ashuraআকাশ২৪ ডেস্কঃ মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা। ইসলামের ইতিহাসে কারবালার শোকাবহ ঘটনাবহুল এ দিনটি মুসলমানদের কাছে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রায় এক হাজার ৩৩৫ বছর আগে এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন।
১০ মহররম হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন।

এ ঘটনা স্মরণ করে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করে থাকে। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাঁদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।
কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সবাইকে  অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা জোগায়।

এ ছাড়া ১০ মহররম আশুরার দিন মহান আল্লাহতায়ালা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আবার এদিন কেয়ামত ঘটাবেন। এর বাইরে এদিন হজরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে রক্ষা পেয়েছেন, হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি পান। এ রকম অসংখ্য ঘটনায় তাৎপর্যমণ্ডিত এ দিনটি মুসলিম সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করে থাকে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি পবিত্র আশুরার শিক্ষা সবার জীবনে প্রতিফলন ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে সব অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আশুরার মহান শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিশ্ব সুন্নি আন্দোলন, বাংলাদেশ প্রতিবছরের মতো এবারও বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও শিয়া সম্প্রদায় কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মরণে পুরান ঢাকার হোসেনী দালান ইমাম বাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল বের করবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন গতকাল হোসেনী দালান পরিদর্শন করেন।

পবিত্র মহররম উপলক্ষে টাঙ্গাইলের গড়পাড়া ইমামবাড়িতে ১০ দিনের ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। এবারও হিজরি সালের প্রথম মাস মহররমের চন্দ্রোদয়ের দিন থেকে ইমামবাড়ি প্রাঙ্গণে কারবালার শোককে স্মরণ করে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজন করা হয় মিলাদ, ফাতেহা, নেয়াজ, মার্সিয়া-মাতম। চন্দ্রোদয়ের দিন সন্ধ্যায় বেজে ওঠে ইমামবাড়ির দামামা। কারবালার যুদ্ধের স্মরণে প্রায় শতবর্ষ যাবৎ সংরক্ষিত আছে এ বিশাল ডঙ্কা। আজ সেখানে বের হবে বিশাল তাজিয়া মিছিল।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেলও এই দিনের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

আজ মর্ত্য ছাড়বেন দুর্গা, ফিরছেন কৈলাশে

Durga puza

Durga puzaআকাশ২৪ রিপোর্টঃ আজ শুভ বিজয়া। শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ সমাপ্ত হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসবের। আজ মর্ত্য ছাড়বেন দুর্গতিনাশিনী, ফিরে যাবেন কৈলাশে।

শাস্ত্র অনুযায়ী, শাপলা, শালুক আর বলিদানের মাধ্যমে দেবীর পূজা হবে। ঢাকের বাদ্যে বিসর্জনের সুর অনুরণিত হবে। দূর কৈলাশ ছেড়ে মা পিতৃগৃহে আসেন নৌকায় চড়ে। আজ বিজয়া দশমীতে এয়োস্ত্রীদের দেবীবরণ ও সিঁদুর খেলার পর বিদায় নেবেন আবারো ঘোটকে। আজ সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে তাই ভক্তদের ঢল। ঢাক আর শঙ্খধ্বনি। টানা মন্ত্র পাঠ। উলুধ্বনি আর অঞ্জলি। সঙ্গে ঢাকের বাদ্য, নাচ, সিঁদুর খেলা। ধান, দুর্বা, মিষ্টি আর আবির দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর আয়োজন আজ চারদিকে।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। বেতার ও টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হবে। সংবাদপত্রে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।

একদিকে বিদায়ের সুর। অন্যদিকে উৎসবের আমেজ। ঢাকেশ্বরী মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন, তাঁতী বাজার, শাখারী বাজার, স্বামীবাগসহ বিভিন্ন মণ্ডপে আবির উৎসবের ঢেউ। সকালে ছিল দর্পণ ঘট বিসর্জন। রাজধানীতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে বিজয়া শোভাযাত্রা শেষে বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকরা জানিয়েছেন, আজ শনিবার সকালে বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রা বের করা হবে। দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেব-দেবীকে এ শোভা যাত্রাসহ সদরঘাট নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বিসর্জনের মাধ্যমে তাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হবে।

এদিকে গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে নবমী বিহিত পূজা। নবমী পূজায় যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে আহুতি দেওয়া হয়েছে। নবমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল বিদায়ের সুর। নবমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় মহানবমী কল্পারম্ভ বিহিত ও সন্ধি পূজা। নানা আচারের মধ্য দিয়ে মহানবমীর পূজা শেষে ভক্তরা দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন।

সাধারণত মহাষ্টমীর শেষ এবং মহানবমী তিথির সংযুক্ত সময়ে সন্ধি পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই সন্ধিক্ষণেই দেবী দুর্গার হাতে অসুর বধ হয়েছিল। আবহাওয়ার প্রতিকূলতা উৎসবে বাধ সাধেনি। বৃষ্টি উপেক্ষা করে জড়ো হন অগণিত ভক্ত। পরিবার প্রিয়জন নিয়ে আসেন দেবীকে শেষবারের মতো দেখতে অনেকেই।