ফেইসবুকের প্রশিক্ষণ পাচ্ছে দেশের দশ হাজার তরুণ-তরুণী

Facebook Training

Facebook Trainingআকাশ২৪ রিপোর্টঃ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ‘বুস্ট ইওর বিজনেস (#BoostYourBusiness)’ নামের একটি প্রকল্প চালু করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় আগামী ৬ মাসে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্নেন্স (এলআইসিটি) প্রকল্প থেকে আইটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১০ হাজার তরুণ-তরুণী ও উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর প্রশিক্ষণ দেবে।
আজ (সোমবার) বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
এ সময় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার সরকার, এলআইসিটি প্রকল্প পরিচালক মো. রেজাউল করিম, এলআইসিটি কম্পোনেন্ট টিম লিডার সামি আহমেদ, ফেসবুকের দক্ষিণ এশিয়ার পলিসি প্রোগ্রামের প্রধান রিতেশ মেহতা, মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট এন্ড কমিউনিকেশনসের (এমসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফ আবীর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানে তিন শতাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের দর্শনের মূলে রয়েছে প্রতিটি অঞ্চল ও সব মানুষের উন্নয়ন এবং প্রতিটি মানুষকে উন্নয়নের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। আইসিটি ডিভিশন ও ফেসবুকের ‘বুস্ট ইউর বিজনেস’ প্রোগ্রাম দেশে উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। যা মূলত ব্যবসার প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
এলআইসিটি প্রকল্প যুক্তরাজ্যভিত্তিক আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং এর মাধ্যমে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণে মোট ৩০ হাজার দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলছে। ইতিমধ্যে তারা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ১৪ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এদের মধ্য থেকে ১০ হাজার জনকে ফেসবুক ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে। এসব তরুণ-তরুণী এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

ফেসবুকের দক্ষিণ এশিয়ার পলিসি প্রেগ্রামের প্রধান রিতেশ মেহতা বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাই অধিকাংশ অর্থনীতির মেরুদন্ড। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাতের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। ফেসবুক বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের দেশ-বিদেশের বাজারে প্রবেশাধিকারে সহযোগিতা করতে পারে।
রিতেশ বলেন, ফেসবুকের ‘বুস্ট ইওর বিজনেস’ প্রোগ্রাম এলআইসিটি প্রকল্প এবং মাল্টিমিডিয়া কনেটেন্ট এন্ড কমিউনিকেশনসের (এমসিসি) সহযোগিতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের যুগোপযোগি প্রশিক্ষণে দক্ষ করে তুলবে এবং তারা নতুন নতুন ক্রেতা সৃষ্টি ও ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।

এবার বুঝি এসেই যাবে পেপাল

Paypal

Paypalআকাশ২৪ ডেস্কঃ পেপাল নিয়ে দেশের ফ্রিল্যান্সারদের আগ্রহে ভাটা পড়ছিল দিনে দিনে। আশা একরকম ছেড়েই দিয়েছিল। এরই মাঝখানে আবারো আশার বানী শুনতে পেল ফ্যিল্যান্সাররা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের মুখে আসল পেপাল আসার কথা শোনা গেল। “বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো ২০১৭” এর দ্বিতীয় দিন তথা ১৯ অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্ঠা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে পেপাল সেবার উদ্বোধন করবেন। আর কেবল সোনালী ব্যাংক নয় সোনালী, রূপালী সহ নয়টি ব্যাংক থেকে পাওয়া যাবে পেপাল সেবা। আর এতে করে দেশে ভার্চুয়াল অর্থ আদান প্রদান বাড়বে। দেশের রেমিটেন্স বৃদ্ধি পাবে।

পেপাল দীর্ঘ একবছর যাবত বাংলাদেশের বাজার যাচাই-বাছাই এবং তাদের বিভিন্ন ব্যবসায়িক পরীক্ষা চালিয়েছে। একটি সম্পূর্ণ নতুন কারেন্সী পেপাল এর সেবায় যুক্ত করতে যেসকল দিক দেখা লাগে তা সব তারা দেখেছে। সর্বশেষ পরীক্ষামূলকভাবে তারা পেপাল এর একটি সেবা “জুৃম” সোনালী ব্যাংক এর মাধ্যমে চালু করেছে। সর্বশেষ কোম্পানিটি সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক লাভ এবং দেশের মানুষের চাহিদার কথা চিন্তা করে পুরোপুরিভাবে কার্যক্রম শুরু করতে চলেছে। দেশের শীর্ষস্হানীয় ৯ টি ব্যাংকের ১০ হাজারের অধিক শাখা থেকে পেপাল এর সেবা মিলবে।
কিছুদিন আগে গুগলের সেরা এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা এডসেন্স বাংলা ভাষায়ও উপযোগী বলে ঘোষনা দিয়েছে – যদিও টেকনিকাল কারনে এখন এডসেন্স সেবা বাংলার জন্য শুরু হয়, অচিরেই হবে। দ্বিতীয়ত অফিসিয়ালি পেপাল এর আগমন – এই দুইয়ে মিলে বাংলাদেশের অনলাইন সেক্টরে এক নতুন মাত্রা সৃষ্টি হবে।

পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কারেও তিন মার্কিন

2017 Physics Nobel

2017 Physics Nobelআকাশ২৪ ডেস্কঃ চিকিৎসার পর পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কারও এবার তিন মার্কিন বিজ্ঞানীর হাতে উঠেছে। তাঁরা হলেন রেইনার ওয়েইজ, ব্যারি সি ব্যারিশ ও কিপ এস থ্রোন। মহাকর্ষ তরঙ্গ আবিষ্কারের জন্য আজ মঙ্গলবার এই তিন মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানীকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

১৯১৫ সালে সাধারণ অপেক্ষবাদের তত্ত্ব নিয়ে কাজ করার সময় এমন একটি তরঙ্গের কথা অনুমান করেছিলেন আইনস্টাইন, যা স্থান-কালকে বাঁকিয়ে দেয়। কিন্তু এর পর বহু বছর কেটে গেলেও এমন কোনো তরঙ্গের প্রমাণ পাননি বিজ্ঞানীরা। অবশেষে ২০১৫ সালে স্বরূপে ধরা দিল মহাকর্ষ তরঙ্গ। মহাকাশে স্থান-কালের কল্পিত বুনটে এ মৃদু তরঙ্গ বিরাজ করে। নক্ষত্রপুঞ্জের মৃত্যু কিংবা দুটি কৃষ্ণগহ্বরের মধ্যে সংঘর্ষের মতো ঘটনা থেকে এ তরঙ্গের সৃষ্টি।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো মহাকর্ষ তরঙ্গের পর্যবেক্ষণ করেন কিপ থ্রোন ও রেইনার ওয়েইজ। এ তরঙ্গ পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁরা ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (ক্যালটেক) একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু করেন। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন আরেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী ব্যারি ব্যারিশ। লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশন্যাল-ওয়েভ অবজারভেটরি (লিগো) নামে নিজেদের তৈরি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে তাঁরা প্রথমবারের মতো মহাকর্ষ তরঙ্গ প্রত্যক্ষ করেন, যা ছিল পৃথিবী থেকে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে। তবে এ বিষয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি দেন গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে।

আবিষ্কারের পর থেকেই এই তিন বিজ্ঞানী সম্ভাব্য সব ধরনের পুরস্কার নিজেদের ঝুলিতে ভরেছেন। আর আজ এর সঙ্গে যুক্ত হলো নোবেল পুরস্কারও। এ বিষয়ে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইডিশ রয়াল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণার সময় মহাকর্ষ তরঙ্গ আবিষ্কারের ঘটনাকে ‘যুগান্তকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে একে ‘পৃথিবী কাঁপিয়ে দেওয়া আবিষ্কার’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে নোবেল কমিটি।

*চিকিৎসার পর পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পেলেন তিন মার্কিনি।
*মহাকর্ষ তরঙ্গ আবিষ্কারের জন্য এবারের নোবেল। *তিন বিজ্ঞানী হলেন রেইনার ওয়েইজ, ব্যারি সি ব্যারিশ ও কিপ এস থ্রোন।
*১৯১৫ সালে আইনস্টাইন এমন একটি তরঙ্গের কথা অনুমান করেছিলেন।
*২০১৫ সালে স্বরূপে ধরা দেয় মহাকর্ষ তরঙ্গ। নক্ষত্রপুঞ্জের মৃত্যু কিংবা দুটি কৃষ্ণগহ্বরের মধ্যে সংঘর্ষ থেকে এ তরঙ্গের সৃষ্টি।
*মহাকর্ষ তরঙ্গ নিয়ে ১৯৭০ সালেই গবেষণা শুরু করেন রেইনার ওয়েইজ। তাই পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার অর্ধেক পাবেন তিনি। বাকিটা কিপ থর্ন ও ব্যারি বারিশ ভাগ করে নেবেন।

নোবেল কমিটির ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘যে তরঙ্গ ধরা পড়েছিল, তা ছিল অনেক দুর্বল। কিন্তু এ তরঙ্গ শনাক্তের ঘটনা জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য বৈপ্লবিক। মহাকাশে ঘটে চলা বিভিন্ন ঘটনার দিকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে আলো ফেলার এক ক্ষেত্র তৈরি করেছে এ আবিষ্কার। এটি আমাদের জ্ঞানের সীমা সম্পর্কে জানতেও সহায়তা করবে।’

রীতি অনুযায়ী আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে তিন বিজ্ঞানীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (১১ লাখ ডলার) অর্ধেক পাবেন রেইনার ওয়েইজ। বাকিটা কিপ থর্ন ও ব্যারি বারিশ ভাগ করে নেবেন।

নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, মহাকর্ষ তরঙ্গ নিয়ে ১৯৭০ সালেই গবেষণা শুরু করেন রেইনার ওয়েইজ। সে সময়ই তিনি লেজারভিত্তিক একটি ইন্টারফেরোমিটার তৈরি করেন। আর লিগো পর্যবেক্ষণকেন্দ্রটি স্থাপনের কাজ শুরু হয় আজ থেকে ৫০ বছর আগে। ২০ টিরও বেশি দেশের এক হাজার বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। রেইনার ওয়েইজ, কিপ এস থ্রোন ও ব্যারি সি ব্যারিশ এ প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা ও বাস্তব রূপায়ণকারী। আর এ কারণেই তাঁদের এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে বলে নোবেল কমিটি জানিয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর এ পর্যন্ত তিনবার মহাকর্ষ তরঙ্গ ধরা দিয়েছে। এর মধ্যে দুইবার লিগোর মাধ্যমে। আর একবার ইতালির ইউরোপীয় মহাকর্ষ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (ইগো) ভারগো ডিটেক্টরের মাধ্যমে এ তরঙ্গ ধরা পড়ে।

নোবেল কমিটির ঘোষণায় বলা হয়, ‘আইনস্টাইন যেমনটা বলেছিলেন, ঠিক সে রকমভাবেই মহাকর্ষ তরঙ্গ আলোর গতিতে মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দুটি কৃষ্ণগহ্বরের পারস্পরিক আবর্তন কিংবা এমন কোনো ঘটনায় যখনই কোনো ভর গতিশীল হয়, তখনই এ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। এ তরঙ্গ স্থানকে (স্পেস) ক্রমাগত সংকুচিত ও প্রসারিত করে। এ তরঙ্গের ফলে সৃষ্ট শব্দ শোনা সম্ভব হলে পুরো মহাবিশ্বকেই সাংগীতিক বলে মনে হবে।’

প্রসঙ্গত, গতকাল চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয়। দেহঘড়ির অস্তিত্বের প্রমাণ দিয়ে গতকাল এ পুরস্কার জিতে নেন তিন মার্কিন জিনবিজ্ঞানী। আর আজ পদার্থবিজ্ঞানে নাম উঠে এল আরও তিন মার্কিনির। এ নিয়ে এ বছরের নোবেল পুরস্কারের প্রথম দুদিন আমেরিকার হয়েই থাকল। আগামীকাল বুধবার ঘোষণা করা হবে রসায়নে নোবেল বিজয়ীর নাম।

গত বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তিন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ডেভিড থলেস, ডানকান হ্যালডেন ও মাইকেল কস্টারলিটজ।

এবার যাত্রীবাহী ড্রোন !

Passenger Drone

Passenger Drone আকাশ২৪ ডেস্কঃ স্মার্টফোনের অ্যাপসের ইশারায় মুহূর্তের মধ্যেই একটি ড্রোন উড়তে উড়তে চলে এলো আপনার সামনে। তাতে উঠে এই জ্যাম-জলাবদ্ধতার ঢাকা শহরে উড়তে উড়তে আপনি পৌঁছে গেলেন গন্তব্যস্থলে। না, কল্পবিজ্ঞানের কোনো গল্প নয়। বাস্তবেই এমনটাই হতে চলেছে। গুপ্তচরবৃত্তি, পর্যবেক্ষণ, চলচ্চিত্র ও গবেষণার মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হওয়া ড্রোন এবার ব্যবহৃত হবে যাত্রী পারাপারে। তবে বাংলাদেশে নয়, দেশের বাইরে।প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগেজেটের খবরে প্রকাশ, গত তিন বছর ধরে যাত্রীবাহী ড্রোনের নকশা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে ইহ্যাং, এয়ারবাস, উবারের মতো নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদেরই প্রচেষ্টায় গত আগস্ট মাসে দুবাইতে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে বেশ কৃতিত্বের সঙ্গেই সফল হয়েছে যাত্রীবাহী ড্রোন বা ‘পেসেঞ্জার ড্রোন’।

অপর একটি প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাশেবলের খবরে জানা যায়, যাত্রীবাহী এই ড্রোন উড়বে ভার্টিকাল টেক অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (ভিটিওএল) প্রযুক্তিতে। অর্থাৎ ড্রোনটির ওঠানামার জন্য কনো রানওয়ের প্রয়োজন পড়বে না। উলম্বভাবেই এটি ওঠা-নামা করতে পারবে। ছোট একটি গাড়ির আকারে ড্রোনটিতে আসনের সংখ্যা মাত্র দুটি। আকাশে উড্ডয়নের জন্য এতে রয়েছে ১৬ টি ইঞ্জিন এবং রটরস। আশপাশের ২০ মাইলের মধ্যে উড়তে সক্ষম প্যাসেঞ্জার ড্রোন। যার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫০ মাইল।নাম যেহেতু প্যাসেঞ্জার ড্রোন, বুঝতেই পারছেন এই যান পরিচালনার জন্য কোনো চালক থাকবে না। তবে এটি চালানোর জন্য চতুর্থ প্রজন্ম বা ফোর্থ জেনারেশন (ফোর জি) ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন পড়বে। তবে আপাতত এটির পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে চালক।প্যাসেঞ্জার ড্রোন চেপে আকাশে ঘুরে বেড়াতে আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে ২০২০ সাল পর্যন্ত। কারণ এখনো প্রযুক্তিগত ও কারিগরি উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে প্যাসেঞ্জার ড্রোন। প্রযুক্তিগত ও কারিগরি উন্নয়ন শেষে ২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের উবার বা পাঠাওয়ের মতো ‘এয়ারট্যাক্সি সার্ভিস’ হিসেবে দুবাইতে চালু হতে যাচ্ছে চালকবিহীন এই উড়োযান সেবা। তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

মহাকাশে আরো এক স্টেশন!

পৃথিবীতে বসে মহাকাশ নিয়ে যে গবেষণাগুলো করা সম্ভব নয়, সেই গবেষণাগুলো করা হয়ে থাকে মহাকাশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বসে। এটি মহাকাশচারীদের জন্য একটি বাসযোগ্য কৃত্রিম উপগ্রহ। এখানে অবস্থান করে মহাকাশের অজানা বিষয়ের রহস্য ভেদ করার গবেষণা করে থাকেন মহাকাশচারীরা।

ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৫৪ কি.মি ওপরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরপাক করে। এটি প্রতিদিন ১৫.৭ বার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

এসব তথ্য আমাদের সকলেরই জানা। নতুন খবর হচ্ছে, মহাকাশে স্থাপিত হতে যাচ্ছে বসবাসযোগ্য আরো একটি স্টেশন। সঙ্গে বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, নতুন মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবী নয়, বরঞ্চ চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবে!

রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথ উদ্যোগে তৈরি করছে ‘ডিপ স্পেস গেটওয়ে’ নামক নতুন এই স্টেশন, যা চাঁদের কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। এটি মানুষকে সুযোগ দেবে পৃথিবীর বাইরে অতীতের তুলনায় আরো বেশি দূরে যাওয়ার।

বাসযোগ্য এই স্থান চাঁদের চারপাশে কক্ষপথে ঘুরবে এবং মহাকাশে আরো গভীরে গবেষণা করার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি চাঁদ থেকে পৃথিবীতে ফিরতি মিশন এবং মঙ্গল গ্রহে মিশন পরিচালনা করা যাবে।

চাঁদের কক্ষপথে স্টেশন স্থাপনের প্রথম মডিউল ২০২৪ সালে সম্পন্ন হতে পারে এবং মডিউলটির নির্মাণ শুরু হবে ২০২২ সালে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মতো নতুন এই স্টেশনটি বিশ্বব্যাপী মহাকাশচারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বুধবার, অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মহাকাশচারী সম্মেলনে এক বক্তব্যে রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থার প্রধান কর্মকর্তা রসকসমস ইগোর কোমারোভ বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে আমরা যৌথভাবে এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করবো এবং আন্তর্জাতিক চন্দ্র কক্ষপথ স্টেশন ডিপ স্পেস গেটওয়ে নির্মাণ করবো।’

স্পুটনিক নিউজকে তিনি বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে আমরা চাঁদের কক্ষপথে বসবাস করা যায় এমন একটি অংশ তৈরি করবো, যেটির ভবিষ্যত লক্ষ্য হবে চাঁদে পূর্ণ প্রযুক্তির বাস্তবায়ন। পরবর্তীতে আমরা মঙ্গলের কক্ষপথেও বাসযোগ্য স্টেশন নির্মাণ করবো।’

এই প্রকল্পে ভারত, চীন ছাড়াও বিআরআইসিএস দেশগুলোর (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) অন্য সদস্যরাও যোগ দিতে পারে।

২০১৬ সালে চাঁদের কক্ষপথে স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা প্রথম প্রকাশ করা হয়েছিল, দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে যেটির বাস্তবায়নের ঘোষণা এবার দেওয়া হলো। ২০২২ সালে নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) ব্যবহার করে ডিপ স্পেস গেটওয়ে লঞ্চ করা হতে পারে। গেটওয়েতে এমন একটি সিস্টেম ব্যবহার করা হবে যা বাণিজ্যিক মহাকাশ যানগুলোকে স্টেশনে অবস্থান করার করার সুবিধা দেবে। পাশাপাশি ডিপ স্পেস যানগুলো সেখান থেকে মানুষকে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার সুযোগ দেবে। এছাড়াও ডিপ স্পেস যানগুলো মহাকাশচারীদের সৌর সিস্টেমের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে।

 

এই স্টেশন থেকে ভবিষ্যতে ক্রুরা মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে ল্যান্ডার অবতরণ করতে সক্ষম হতে পারে। চাঁদের কক্ষপথে থাকাকালীন অন্যান্য বৈজ্ঞানিক ও রোবটিক মিশন পরিচালনা করতে পারে।

চাঁদের কাছাকাছি অবস্থান করার পরিকল্পনার নেতৃস্থানীয় মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা চলতি বছরের মার্চ মাসে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, সেখানে মহাকাশচারীগণ মঙ্গলের পাশাপাশি অন্যান্য গভীর স্থানগুলোর গন্তব্যস্থলে চ্যালেঞ্জিং মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় সিস্টেমগুলো পরীক্ষা করবে।’

নাসার সাম্প্রতিক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘চাঁদের কাছাকাছি অবস্থানের জায়গাটি এমন, যা সত্যিকার অর্থে গভীর স্থানের পরিবেশ। যেটিতে মানুষ পাঠানো ছাড়াও ধীরে ধীরে সৌর জগতের আরো গভীরে প্রবেশ করাটা সম্ভব হবে। চাদেঁর পৃষ্ঠে রোবটিক মিশন পরিচালনার সুযোগ দেবে এবং প্রয়োজনে মাস কিংবা সপ্তাহের পরিবর্তে ১ দিনে পৃথিবীতে ফেরত আসা সক্ষম হবে।’

সেখানে যাওয়ার বাহনগুলোর অভ্যন্তর খুবই সুরক্ষিতভাবে ডিজাইন করা হচ্ছে যেন ডিপ স্পেসের কঠোর পরিবেশে মহাকাশচারীরা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে পারে। গেটওয়েটি নিজস্ব একটি সোলার ইলেকট্রিক প্রপুলেশন (এসইপ) সিস্টেম দ্বারা চালিত হবে, নতুন এই প্রযুক্তি ডেভেলপ করছে নাসা।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল

মঙ্গল গ্রহে মানুষের সম্ভাব্য আত্মঘাতী সমস্যা

আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে মানুষবাহী মহাকাশযান পাঠাতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে ভুগছে নাসা। চীন বলছে, তারা ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রহটিতে মানুষ পাঠানোর আশা করছে। এমনকি রাশিয়াও মঙ্গল গ্রহে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

এদিকে রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাটা এলন মাস্ক যত দ্রুত সম্ভব মঙ্গল গ্রহে ১ লাখ মানুষের বসতি স্থাপন করার লক্ষে স্পেস ফ্লাইটের ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছেন।

কিন্তু সম্প্রতি ইঁদুরের ওপর করা রেডিয়েশনের প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা যদি মানুষের ক্ষেত্রে একই হয়, তাহলে মঙ্গল গ্রহে যাওয়াটা যেকোনো ব্যক্তির জন্যই ধারণার চেয়ে বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। নেচারে প্রকাশিত গবেষণাটিতে মূল প্রতিবন্ধকতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, কসমিক রে (মহাজাগতিক রশ্মি)।

কসমিক রে এর ভয়াবহ দিক
মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে খুবই উচ্চ শক্তিসম্পন্ন অ্যাটমিক এবং সাবঅ্যাটমিক কণা, যা নক্ষত্রের বিস্ফোরণ, ব্লাক হোল এবং অন্যান্য শক্তিশালী উৎস থেকে উৎপত্তি হয়। এই রশ্মির প্রভাবে নভোচারীর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, ক্যানসার হতে পারে, দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হতে পারে, এছাড়াও অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

পৃথিবীতে থাকা আমাদের তুলনায় মহাকাশচারীরা অনেক বেশি উচ্চ বিকিরণ পায়, কেননা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল অনেক ক্ষতিকর বিকিরণ শোষণ করে নেয়। এছাড়াও পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রটি মহাজাগতিক অনেকগুলো বিকিরণকেও বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং স্থানচ্যুত করে, যা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা মহাকাশচারীদের রক্ষা করতে সাহায্য করে, যেটি পৃথিবীর মাত্র ২৫০ মাইল ওপরে অবস্থিত।

মঙ্গল গ্রহে ভ্রমণের বেলায় বলা যায়, সেটি হচ্ছে মহাজাগতিক রশ্মির জন্য উন্মুক্ত পরিবেশ। উপরন্তু, গ্রহটি তার চৌম্বক ক্ষেত্র কোটি কোটি বছর আগে হারিয়েছে, ফলে মহাকাশচারীদের সেখানে অতিরিক্ত বিকিরণের প্রভাবে ফেলবে।

নেভাদা লাস ভেগাস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক কুইনোটা এবং তার সহকর্মী ইলিডোনা কাকাও তাদের গবেষণায় ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাবে ইঁদুরের টিউমারের সৃষ্টির চারটি পূর্ববর্তী গবেষণার ফলাফল পুনর্বিবেচনা করে এই সমস্যাটি খুঁজে পেয়েছেন। শরীরের কোষে সরাসরি অত্যাধিক মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাবে ক্যানসার হতে পারে। ইঁদুরের ক্ষেত্রে গবেষণায় তারা দেখতে পেয়েছেন যে, আগের অনুমানের তুলনায় ক্যানসার ঝুঁকি দ্বিগুণ ছিল।

ডিপ-স্পেস ভ্রমণ যে কারণে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বিপজ্জনক
গবেষকরা মনে করেন, ক্যানসারের এই উচ্চ ঝুঁকি পুরো শরীরের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করায় সৃষ্টি হয়। যখন শরীরের কোনো কোষ মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাবে পড়ে, তখন এটি কেবল নিজেকেই পরিবর্তন করে না। বরঞ্চ অন্য কোষগুলোর রাসায়নিক কাজও বন্ধ করতে পারে, যা ক্যানসারে রূপান্তর হতে পারে।

মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাব কমাতে স্পেস এজেন্সি এবং প্রাইভেট কোম্পানিগুলো কাজ করছে। উদাহরণস্বরূপ, নাসার বিজ্ঞানীদের একটি দল মঙ্গলের চারপাশে ক্ষতিকারক বিকিরণ কমানোর জন্য কৃত্রিম চৌম্বকীয় ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করেছে।

নেভাদা লাস ভেগাস বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, ডিপ-স্পেস গবেষণায় মহাকাশ সংস্থাগুলোকে আরো সতর্কটা অবলম্বন করতে হবে।

তথ্যসূত্র : বিজনেস ইনসাইডার