বাংলাদেশী ব্যান্ডের ভাঙ্গা-গড়ার ইতিহাস

bangladeshi-banad

bangladeshi-banadআকাশ২৪ ডেস্কঃ সম্প্রতি দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীন থেকে ব্যান্ডটির শ্রোতা নন্দিত ভোকাল তানযির তুহিন দলছুট হয়ে যাওয়ার ঘোষণায় বিমর্ষ হয়ে পড়ে তুহিন ভক্তরা। তুহিনের বিচ্যুতিকে সরাসরি শিরোনামহীন ব্যান্ডের ভাঙন বলা না গেলেও দলের ভাঙন বলা যেতেই পারে। তবে বাংলা ব্যান্ডের ইতিহাসে এটিই প্রথম ভাঙন নয়।

স্বাধীনতাপূর্ব পাকিস্তান আমলে জন্ম নেওয়া প্রথম বাংলা ব্যান্ড আইওলাইটসও শিকার হয়েছিল ভাঙনের। দলের ড্রামার সাব্বির এবং গিটারিস্ট রফিক দল ত্যাগ করার ফলে ভেঙে গিয়েছিল দলটি। আইওলাইটস এর সমসাময়িকেই বাংলাদেশের চট্টগ্রামে জন্ম নিয়েছিল আরেকটি ব্যান্ড। সেটির নাম ছিল জিংলা শিল্পগোষ্ঠী

আইওলাইটস ও জিংলা শিল্পগোষ্ঠী- এ দুয়ের মধ্যে কোনটি প্রথম বাংলা ব্যান্ড এ নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। তবে উভয় ব্যান্ডই ভেঙে গিয়েছে। জিংলা শিল্পগোষ্ঠীর ভোকালের নাম ওমর খালেদ রুমী। তিনি পরবর্তীতে দল থেকে বিদায় নিয়ে আরেকটি ব্যান্ডের হয়ে কাজ করেন। জিংলার পরপর ঐ চট্টগ্রামেই জন্ম নিয়েছিল আরেকটি বাংলা ব্যান্ড, নাম ছিল ব্যান্ড লাইটনিংস। এটি গঠিত হয়েছিল ১৯৬৭ সালে। ফরিদ রশীদনিওম্যান্ডেজনোয়েল ও শাকিল নামে কজন সঙ্গীতমনস্ক ব্যক্তির প্রচেষ্টায় গড়ে উঠে ছিল এ গানের দলটি।

ব্যান্ড লাইটনিংসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাহমুদ, তোতা, চিত্রনায়ক জাফর ইকবাল ও ফারুক মিলে গঠন করেছিলেন র‌্যাম্বলিং স্টেনস নামে আরেকটি ব্যান্ড। এ দুটি দলই পাকিস্তান আমলে ব্যাপক জনপ্রিয়রতা লাভ করেছিল বাংলাদেশ।

দুবছর গড়াতে না গড়াতেই ভাঙনের কবলে পড়ে র‌্যাম্বলিং স্টেনস। এ দলের সদস্যরা পৃথক হয়ে গিয়ে তৈরি করেছিল নতুন দল টাইম গো মোশন

এবার আসা যাক স্বাধীনতা উত্তর বাংলা ব্যান্ডসমূহের ভাঙনের প্রসঙ্গে। স্বাধীনতার পরপর ১৯৭২ সাল থেকেই এ দেশে বেশ কিছু ব্যান্ড গঠিত হয়। সেসব দলের মধ্যে কিছু কিছু ব্যান্ড বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে এবং কিছু কিছু ব্যান্ড অনেক রদবদল করে এখন পর্যন্ত টিকে আছে। আগলি ফেসেস, আন্ডার গ্রাউন্ড পিস লাভারস, স্পন্দন ও উচ্চারণ ব্যান্ডের কোনো কার্যক্রম এখন চোখে পড়ে না।

স্পন্দন ব্যান্ড থেকে ফেরদৌস ওয়াহিদ ও ফিরোজ সাঁই, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী থেকে ফকির আলমগীর যুক্ত হয়েছিলেন উচ্চারণ ব্যান্ডে। এই ব্যান্ডে ছিলেন পপ সম্রাট আজম খান। পরবর্তীতে উচ্চারণ ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হন পিলু মমতাজ। ফলে উচ্চারণ ব্যান্ড সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছিল এই পাঁচ গুণী শিল্পীর সমন্বয়ে। এ পাঁচজনকে তৎকালীন বলা হতো পাঁচপীর। কিন্তু সেই পাঁচপীরও বেশিদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি উচ্চারণ ব্যান্ডকে।

স্বাধীনতা পরবর্তীতে গঠিত হওয়া সুরেলা’ সঙ্গীত দল ভাঙনের কবলে পড়ে বিবর্তিত হয়ে রূপ নেয় সোলস ব্যান্ডে। এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘয়ু সম্পন্ন ব্যান্ড। ১৯৮৫ সালে সোলস থেকে বেরিয়ে নকীব খান গঠন করেন রেঁনেসা। এছাড়াও ঐ সোলস ব্যান্ডেই ১০ বছর লিড গিটারিস্ট হিসেবে ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। এরপর নিজেই গড়েন এলআরবিব্যান্ড। তৎকালীন এই ব্যান্ডে আইয়ুব বাচ্চু ছাড়াও ছিলেন স্বপন, টুটুল ও রিয়াদ। একটি সময় রিয়াদের বিচ্যুতি ঘটে এলআরবি থেকে। এছাড়াও নিজের সলো ক্যারিয়ার গড়তে এলআরবি ছেড়ে যান এসআই টুটুল।

১৯৭০ সালের দিকে গঠিত হয়েছিল ব্যান্ড ফিডব্যাক। ভোকাল ছিলেন মাকসুদ। কিন্তু ১৯৯৬ সালে ফিডব্যাক ছেড়ে ঢাকা ব্যান্ড তৈরি করেন তিনি।

১৯৭৬ সালে গঠিত হওয়া বালার্ক ব্যান্ডের একই দশা। আশির দশকে বালার্ক ছেড়ে হ্যাপী আখন্দইমতিয়াক ও কামালল্যারীর প্রতিষ্ঠা করা ব্যান্ড মাইলসে যোগ দেন। মাইলস গঠিত হয়েছিল ১৯৭৯ সালে। মতান্তরে এ ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৮১ সালে হয়েছে বলেও ধারণা করেন অনেকে। কাল পরিক্রমায় মাইলসে যুক্ত হন হামিদ ও শাফিন। কিন্তু ২০১০ সালে ব্যান্ডে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকায় পৃথক হয়ে যান শাফিন। পৃথক হয়ে রিদম অব লাইফ নামে নতুন একটি ব্যান্ড করেছিলেন তিনি। অবশ্য এই একই বছরে পুনরায় মাইলসে ফিরে আসেন শাফিন।

১৯৮৪ সালের ৫ জুন নাগাদ যাত্রা শুরু করে ওয়ারফেইজ ব্যান্ড। প্রচুর ভাঙা গড়ার মধ্য দিয়েই তিন দশক ধরে টিকে আছে এ ব্যান্ডটি। ফিলিংস ভেঙে অর্থহীন ব্যান্ড হয়ে যাওয়া ব্যান্ডের বেইজ গিটারিস্ট সুমনও একটা সময় ছিলেন ওয়ারফেজেই।

ফিলিংস নামের ব্যন্ডের যাত্রা শুরু হয়েছিল চট্টগ্রামে। অতঃপর ফিলিংস ভেঙে তৈরি হয় দুটি ব্যান্ড, নগর বাউল ও অর্থহীন। ব্যান্ড শিল্পী পান্থ কানাইয়েরও আবির্ভাব আদি ফিলিংস তথা বর্তমান নগর বাউল থেকে। পরবর্তীতে তাণ্ডবনামের ব্যান্ড করেছিলেন পান্থ কানাই। তিনি বর্তমানে আছেন অণর্ব অ্যান্ড ফ্রেন্ডসএর সঙ্গে।

অর্থহীন ব্যান্ডের উদ্ভব ১৯৯৯ সালে। সে সময় রুমি তার ব্যান্ড দ্য ট্র্যাপ‘ ত্যাগ করে সুমনের দলে যোগ দেন। এই বছরই ব্যান্ডের নাম ঠিক হয় অর্থহীন। কয়েকমাস পর ব্যান্ডের দুই সদস্য যুবায়ের এবং আদনান দলত্যাগ করেন। ২০০১ সাল নাগাদ অর্থহীন ব্যান্ড ছেড়ে যান রুমি। এর দলনেতা বেইজ গিটারিস্ট সুমন ১৯৯৩ সাল নাগাদ ছিলেন ফিলিংস ব্যান্ডে।

১৯৯০ এর দিকে আবির্ভাব হয় ব্যান্ড আর্কএর। ভোকাল ছিলেন হাসান। পরবর্তীতে তিনি আর্ক থেকে বেরিয়ে যানস্বাধীনতা নামে একটি ব্যান্ড তৈরি করেন করেন। অতঃপর সেই স্বাধীনতা ব্যান্ড থেকেও বেরিয়ে হাসান জন্মভূমিনামের একটি ব্যান্ড করেন।

১৯৯৯ সালে আসে ব্যান্ড দল ব্ল্যাক। নিজেদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ার কারণে সেটিও ভেঙে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জন, জাহান, টনি, তাহসান ও মিরাজ। সলো ক্যারিয়ার গড়তে তাহসান বেরিয়ে যান ব্ল্যাক থেকে। জন বেরিয়ে গঠন করেন ইন্দালো নামের ব্যান্ড।

এ শতাব্দীর শুরুর দিকে নতুন ঘরানার ব্যান্ড দল নিয়ে উপস্থিত হয় বাংলা ব্যান্ড দল। আনুশেহ, বুনো ও অর্ণবের রকিং কম্বিনেশনে গঠিত হয় এটি। সেখান থেকে বেড়িয়ে অণর্ব প্রেয়ার হল নামে একটা ব্যান্ড করেছিলেন। সেটি টেকেনি। বর্তমানে অর্ণব অ্যান্ড ফ্রেন্ডস নামে একটি ব্যান্ড আছে অর্ণবের।

২০০২ সালে গঠিত ব্যান্ড দল চিরকুট বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। এর ভোকাল সুমি। তবে এই ব্যান্ড দল থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন ব্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পিন্টু ঘোষ।

বর্তমান সময়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ব্যান্ডের নাম দূরবীন। প্রায় তের বছর আগে গঠিত হওয়া এ ব্যান্ড থেকে বিদায় নেন কাজী শুভ ও আরেফিন রুমি। তবে দলনেতা ও ভোকাল শহীদ আছেন আগের মতোই।

এই ছিল ভাঙার গল্প। এখানে কেবল সে সমস্ত ব্যান্ডের কথা উল্লেখকরা হয়েছে, সেগুলো ভাঙা কিংবা সদস্য বিচ্যুতির মধ্যে দিয়ে এসেছে। এগুলো ছাড়াও বাংলাদেশে আরও অনেক ব্যান্ড রয়েছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, উপরে ব্যান্ড ভাঙার সংবাদে আর্টসেলএর নাম আসেনি। অথচ এটিও বাংলাদেশের শীর্ষ শ্রেণির ব্যান্ডগুলোর একটি। এই ব্যান্ডটির উদ্ভব ১৯৯৯ সালে। চার বন্ধুর প্রচেষ্টায় তৈরি এ ব্যান্ডের ভাঙন সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কেবলমাত্র ভাঙনকে কেন্দ্র করে সংবাদটি লেখা, আর তাই- কোন ব্যান্ডে বর্তমানে কে কে রয়েছেন কিংবা তাদের বর্তমান ব্যস্ততা কী, সেটা উল্লেখকরা হয়নি। সেই সংবাদ না হয় অন্য কোনো সংবাদে আলাদা করে তুলে ধরা হবে কোনো একদিন। এই সংবাদের ব্যবহৃত তথ্যাদি ইন্টারনেটের বিভিন্ন আর্টিকেল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

সৌজন্যে ঃ শিবলী আহমেদ, ফিচার লেখক, বিনোদন

ঢাকা অ্যাটাকঃ মুখিয়ে আছে ঢাকার দর্শক

Dhaka Attack

Dhaka Attackআকাশ২৪ ডেস্কঃ ইতোমধ্যে ছবির ট্রেলার, গান দেখে দর্শক মুগ্ধ। সঙ্গত কারণে ছবিটি দেখতে মুখিয়ে রয়েছেন দর্শক। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৬ অক্টোবর) মুক্তি পেতে যাচ্ছে  বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলারধর্মী ছবি ‘ঢাকা অ্যাটাক’। চলচ্চিত্র পাড়ায় ছবিটি নিয়ে ব্যপক আগ্রহ দেখা গেছে।

ইতোমধ্যে হল মালিকরা ছবিটির বুকিং নেয়া শুরু করেছেন। ছবিটি ১৫০টির বেশি হলে বুকিং পেয়েছে। ঈদ ছাড়া এতো বেশি হলে ছবি মুক্তির এটাই রেকর্ড বলে জানিয়েছে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান জানায়, এর বাইরে আরও অনেক হল মালিক ছবিটি প্রদর্শন করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী শুক্রবারের আগে আরও হল বাড়বে বলে জানিয়েছেন তারা।

দীপংকর দীপন পরিচালিত ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ, মাহিয়া মাহি, আলমগীর, শতাব্দী ওয়াদুদ, নওশাবা, শিপন, হাসান ইমাম, আফজাল হোসেন প্রমুখ। 

ছবির কাহিনী লিখেছেন পুলিশ কর্মকর্তা ছানী সানোয়ার। প্রযোজনা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ পরিবার ও থ্রি হুইলার্স লিমিটেড।

মুকুট খোয়লেন মিয়ানমার সুন্দরী

Shwe Eain Si

সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজকরা রোববার ১৯ বছর বয়সী ‘মিস গ্রান্ড মিয়ানমার’ শোয়ে ইয়ান সি’র খেতাব প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

বিবিসি জানায়, গত সপ্তাহে সি অনলাইনে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি রাখাইনের সহিংস পরিস্থিতির জন্য রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করে বলেন, সুন্দরী প্রতিযোগিতার একজন প্রতিযোগী হিসেবে তার দায়িত্ব শান্তির পক্ষে কথা বলা।

ভিডিওতে সি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে ঘটে যাওয়া সহিংসতা সম্পর্ক সাধারণ মানুষ আমার মতামত জানতে চায় বলেই আমি নিজের দায়িত্ববোধ থেকে এ ভিডিও পোস্ট করেছি।”

ভিডিওতে সি আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকে (এআরএসএ) ইসলামপন্থি সম্প্রসারণবাদী আন্দোলনের দল আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা প্রতারণা করে আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যম ও সুশীল সমাজের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে।

সি আরও বলেন, “এআরএসএ সেনাদের ওপর খেলাফত-স্টাইলে কল্পনাতীত হামলা চালিয়েছে। অথচ তারা ও তাদের মিত্ররা বিষয়টি এমনভাবে প্রচার করছে যেন মনে হচ্ছে উল্টো তারাই নিপীড়িত হচ্ছে।”

তবে প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন সি। তিনি বলেন, “আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে এসে প্রকৃত পরিস্থিতি দেখে যাওয়ার আহবান জানাচ্ছি।’

ভিডিওতে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নিপীড়ন এবং রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিয়ে কোনও কথা বলা হয়নি।

আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজকরা সি’এর ভিডিওর বিষয়ে কিছু উল্লেখ না করে বলছে, “সি সুন্দরী প্রতিযোগিতার নিয়ম ভঙ্গ করেছেন এবং তার ব্যবহার একজন রোল মডেলের মত নয়।”

সেকারণে আগামী ৫ থেকে ২৬ অক্টোবর ভিয়েতনামে অনুষ্ঠেয় মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ২০১৭ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন না তিনি। কারণ, এ সুন্দরী প্রতিযোগিতার লক্ষ্য হচ্ছে যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

নিউক্লিয়ার মেডিসিনের প্রধান ডাঃ এজাজ

dr.ezaz

dr.ezazআকাশ২৪ ডেস্কঃ হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরে ছোটপর্দায় পা রেখেছিলেন। এরপর দেখা গেছে বড়পর্দায়ও। চিকিৎসা পেশায় নিয়মিত হলেও এ নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না। তিনি জনপ্রিয় অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম। 

সম্প্র্রতি তার চিকিৎসা ক্যারিয়ারে নতুন পালক যোগ হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগের প্রধান হয়েছেন এজাজুল।

খবরটি জানালেন নির্মাতা অনিমেষ আইচ। পাশাপাশি দুঃখ করেন এমন একটি অর্জন সংবাদমাধ্যমে তেমন গুরুত্ব পায়নি।

‘ভয়ংকর সুন্দর’ নির্মাতা মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে লেখেন, ‘দেশের মানুষের কাছে তিনি একজন স্বনামধন্য অভিনেতা পাশাপাশি একজন সুচিকিৎসক। সম্প্রতি তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হয়েছেন, অবশ্যই এটি আমাদের জন্য গর্ব ও আনন্দের। কিন্তু এ নিয়ে কোন সংবাদ দেখলাম না কোন পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন চ্যানেলে। অথচ কার সঙ্গে কার ডিভোর্স হলো, কার সুন্দরী হওয়ার নেপথ্য ইতিহাস কী? এ নিয়ে জাতির মাথা ব্যাথার অন্ত নাই।’

অনিমেষ আরো বলেন, ‘মিডিয়ার মানুষদের বিজয়ের গল্প ও সাধারণ মানুষদের জানা দরকার। এ ইতিহাস কেবল কিছু বিভ্রান্তির গল্পে সীমাবদ্ধ নয়। অভিনন্দন এজাজ ভাই।’

এজাজুল ইসলাম ১৯৮৪ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউক্লিয়ার মেডিসিনে স্নাতকোত্তর পাশ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক ‘সবুজ সাথী’ দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু এজাজুল ইসলামের। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’। তিনি ‘তারকাঁটা’য় অভিনয়ের জন্য ৩৯তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্র অভিনেতার স্বীকৃতি পান।

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ চ্যাম্পিয়নকে ঘিরে বিতর্ক

Miss world Bangladesh

Miss world Bangladeshআকাশ২৪ ডেস্কঃ ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ চ্যাম্পিয়নকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। আয়োজকদের সিদ্ধান্তেই নাকি নির্বাচন করা হয়েছে গ্র্যান্ড ফিনালের চ্যাম্পিয়ন জান্নাতুল নাঈমকে। এমন কাণ্ডে বিস্মিত হয়েছেন গ্র্যান্ড ফিনালের ছয় বিচারক। যে  প্রতিযোগীকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে, তিনি নাকি বিচারকদের পছন্দের তালিকায় ছিলেন না। যাচাই-বাছাই শেষে বিচারকেরা ভোট দিয়ে যাঁকে প্রথম নির্বাচিত করেছেন, আয়োজকের নির্দেশে উপস্থাপক তাঁকে দ্বিতীয় ঘোষণা করতে বাধ্য হন। 

এবারই প্রথম ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। আর তা আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয় গত জুলাই মাসে। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য তখন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়। আয়োজক প্রতিষ্ঠান অন্তর শোবিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫ হাজার আগ্রহী নাম নিবন্ধন করেন। তাঁদের মধ্য থেকে কয়েকটি ধাপে বাছাই করা হয়েছে সেরা ১০ জনকে। এই ১০ জন হলেন রুকাইয়া জাহান, জান্নাতুল নাঈম, জারা মিতু, সাদিয়া ইমান, তৌহিদা তাসনিম, মিফতাহুল জান্নাত, সঞ্চিতা দত্ত, ফারহানা জামান, জান্নাতুল হিমি ও জেসিকা ইসলাম। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী হলে এই প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালেতে অংশ নেন তাঁরা। যিনি সেরা হয়েছেন, তিনি ১৮ নভেম্বর চীনের সানাইয়া শহরে অনুষ্ঠেয় ৬৭তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন।

‘লাভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালের বিচারক ছিলেন জুয়েল আইচ, শম্পা রেজা, বিবি রাসেল, চঞ্চল মাহমুদ, রুবাবা দৌলা ও সোনিয়া বশির কবির। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন শিনা চৌহান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন বিচারক আজ শনিবার সকালে কথা বলেন প্রথম আলোর সঙ্গে। তাঁদের মতে, ‘এটা খুব অন্যায় হয়েছে। আমাদের সবার কাছে যে প্রথম হয়েছে, তাকে প্রথম করা হয়নি। যাকে প্রথম করা হয়েছে, সে আমাদের প্রথম তিনজনের তালিকায়ও ছিল না। যেহেতু এটা একটা আন্তর্জাতিক ইভেন্ট, তাই আমরা এমন একজন প্রতিযোগীকে বাছাই করতে চেয়েছি, যে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারবে। আমরা একবাক্যে জেসিকা ইসলামকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নির্বাচিত করি। গতকাল রাতে যা ঘটল, তা আমাদের জীবনে খুব খারাপ একটা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল। এত বড় একটা অন্যায় এভাবে হবে, ভাবতেও পারিনি।’

ক্ষুব্ধ এই বিচারকেরা বলেন, ‘আয়োজকেরা যদি নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, তাহলে তো বিচারক হিসেবে আমাদের রাখার প্রয়োজন ছিল না। আমাদের জন্য এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। নাম ঘোষণার ওই মুহূর্তে এত মানুষের সামনে আমরা আয়োজকদের অপমান করতে চাইনি। এখন মনে হচ্ছে, তখন আমাদের এই কাজটি করা উচিত ছিল।’

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে অন্তর শোবিজ ও অমিকন এন্টারটেইনমেন্ট। বাংলাদেশে এবারই প্রথম ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’-এর ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠান দুটি। অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী এই ঘটনা স্বীকার করে আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা আসলেই একটা মিসটেক (ভুল) হয়ে গেছে।’

তবে বিকেলে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠান স্বপন চৌধুরী। এখানে তিনি বলেন, ‘আসলে দুজনের নাম প্রায় একই হয়ে যাওয়ায় সমস্যাটা হয়েছে। লাইভ টেলিকাস্টের কারণে আমরা হুট করেই জানতে পারি, আমাদের হাতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় রয়েছে। তখন তাড়াহুড়ো করতে হয়েছে। ভারতীয় উপস্থাপক শিনা চৌহান ঠিকঠাক সব চালিয়ে নিলেও মূল নাম উপস্থাপন করতে গিয়ে ভুল করে ফেলেছেন। এমন ভুল অস্কারের মতো আসরেও হয়। এরপরও আমরা এ ধরনের ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। এটাই চূড়ান্ত ফল, এখানে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।’

 সূত্রঃ প্রথম আলো

কুসুমের ‘নেশা’ কুসুমাস্তীর্ণ নয়

যে কোনো জিনিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ কিংবা সমালোচনা তার প্রতি মানুষের কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আলোচিত কিংবা সমালোচিত হতে মানুষ সমাজের প্রবহমান স্রোতের বিরুদ্ধে গিয়ে নানা কর্মকাণ্ড করে। সেই সকল কাজ মানুষ, সমাজ বা রাষ্ট্র কীভাবে নিল তা মূখ্য না হয়ে পরিচিতিই তাদের কাছে প্রধান বিবেচ্য হয়ে ওঠে। পর্নোগ্রাফির মামলা না হলে হয়ত বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পী কুসুম সিকদারের ‘নেশা’ গানটি দেখা কিংবা শোনার ইচ্ছে অনেকেরই হতো না।

গানের মিউজিক ভিডিওটিকে পর্নোগ্রাফির সাথে তুলনা করে এর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর আগে আগস্ট মাসে গানটি রিলিজ হবার পর অশ্লীলতার অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন এক আইনজীবী। তখনও ভিডিওটি দেখার আগ্রহ না হলেও এবার নতুন করে আলোচনায় আসার ফলে মনোযোগ দিয়ে সেটি দেখলাম। গানটির মিউজিক ভিডিও নিয়ে একটু বিশ্লেষণ করতে চাই।

গানটির শুরুর কথাগুলোতে যৌনতার গন্ধ আছে। আছে যৌন খোরাক। মনে হচ্ছে কথাগুলোর মাধ্যমে যৌনঘোরে বুঁদ হয়ে আছেন এক নারী। তবে পরের কথাগুলো বেশ নান্দনিক। সুরের মধ্যে খানিকটা ঘোর আর মোহ আছে। কুসুম সিকদারের নিজের লেখা ও গাওয়া গানটি যে প্রবহমান সময়ের একটি ব্যতিক্রমী কাজ তাতে সন্দেহ নেই, গায়কিও অসাধারণ। তবে গানের মিউজিক ভিডিওর শুরুতেই সুইমিংপুলে প্রায় নগ্ন কুসুমের স্নানদৃশ্যের সাথে সহ-অভিনেতার কামুক চেহারার অভিব্যক্তি যেন বলছে এর উন্মাদনা একটু আলাদা। পুরো গানে প্রায় নগ্ন বা অর্ধনগ্ন কুসুমের পাঁচটি গোসলের দৃশ্য, সাতটি সুইমিংপুলের দৃশ্য, একটি শয্যা আর তিনটি চুম্বন দৃশ্য রয়েছে।

যার প্রতিটি দৃশ্যেই খোলামেলা বা অর্ধনগ্ন পোশাকে কুসুম সিকদার যেন নেশার ঘোরে কাতরাচ্ছেন। আর সহ-অভিনেতা সুজনের খালি গায়ে চুম্বন ও জড়িয়ে ধরার দৃশ্য যেন মনে হচ্ছিল কামনায় তিনিও বুঁদ। তাছাড়া তাদের অঙ্গভঙ্গিতেও প্রকাশ পাচ্ছিল স্বাভাবিক অভিনয়ের চেয়ে উস্কানিমূলক মাদকতা। এমন দৃশ্যের সাথে নান্দনিক শিল্পগুণে সমৃদ্ধ কথামালার এমন একটি গানের কোনো মিল নেই বলেই মনে হয়েছে আমার। তাছাড়া গানের থিম বা মূল বক্তব্যের সাথে দৃশ্যায়নেরও কোনো সংযোগ নেই। নিতান্তই গানটিকে দ্রুত জনপ্রিয় করার সস্তা পথ হিসেবে এটি করা হয়েছে। পুরো গানের যে আলো-আঁধারি আর মাদকতায় ঠাসা দৃশ্যের চিত্রায়ন তাতে আমি মনে করি, পুরুষ এমনকি নারীরাও এই ভিডিওটির ব্যাপারে আপত্তি জানাবেন।

এর কভার ফটোতে যে ছবি ব্যবহৃত হয়েছে, তাতে দেখা যায় একটি ছেলে খালি গায়ে দুহাতে জড়িয়ে একটি মেয়েকে চুমু খাচ্ছে। সেখানে দুজনই গভীর আবেদনে আলিঙ্গনরত যা অন্য কিছুর ইঙ্গিত দেয়। এ ধরনের একটি বিশেষ ভাবধারায় নির্মিত মিউজিক ভিডিও আর যাই হোক, বিনোদনপ্রেমী বাঙালির মনের খোরাক মেটাতে পারে বলে আমি মনে করি না। তাছাড়া এই ভিডিওটি উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের উস্কানি ছাড়া আর কিছুই দিতে পারে না বলেই মনে হয় আমার। নারীর এমন খোলামেলা শরীর আর কামুক উত্তেজনার ভরপুর চিত্রায়ন তরুণদের নারী শরীরের প্রতি আরো আগ্রহী করে তুলবে। এবং এর কুপ্রভাব পড়বে সমাজে।

এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে কি এদেশের তরুণরা এরচেয়ে বেশি নগ্নতা বা ইউরোপ-আমেরিকার পর্নোগ্রাফি দেখে না? দেশে কি এই গানের আগে এমন ভিডিও দেখা যায়নি? বাংলাদেশে কি এর আগে মুনমুন-ময়ূরী কিংবা পলিরা নগ্ন শরীর প্রদর্শন করে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেয়নি? সবকটি প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে- হ্যাঁ। তবে মনে রাখতে হবে, সেই সময়ের বাঙলা ছবিতে যাদের অর্ধনগ্ন হয়ে নাচতে দেখা গেছে তারা সবাই ঝরে পড়েছে। তাদের মানুষ মনে রাখেনি। এর মানে প্রথম কদিন তাদের শরীরের মেদে কিছু মানুষের বিনোদনের খোরাক পূরণ হলেও কদিন পর ঠিকই তারা ছিটকে পড়েছে। সেই সময়ে অশ্লীল সিনেমা বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন আর তথ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্মারকলিপি দিতেও দেখা গেছে। অশ্লীলতার দায়ে অনেক সিনেমা আটকে গেছে সেন্সর বোর্ডে। আর এক শ্রেণীর রুচিশীল দর্শক হলমুখী ছিলেন না। সর্বদা অশ্লীলতার বিরুদ্ধে বলেছেন তারা। সেই সময় সিনেমা ফ্লপের কারণে মুনাফা অর্জনে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন নির্মাতারা। তবে সেই দিন আর নেই। চলচ্চিত্রে আবার ফিরেছে সুদিন। নির্মিত হচ্ছে ভালো সিনেমা।

আর যদি বিদেশি ব্লু ফিল্মের কথা বলি, সেটা এখনও খারাপের চোখেই দেখা হয় আমাদের সমাজে। কেউ উন্মুক্ত জায়গায় কিংবা পরিবারের সাথে তা দেখার সাহস করেন না। অভিভাবকরাও সচেতন যাতে তাদের সন্তানেরা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত না হন সে ব্যাপারে। সম্প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয় পর্নোগ্রাফি আসক্তি ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যা থেকে স্পষ্ট প্রমাণ হয় সবাই অশ্লীলতার বিরোধী। এবং আমাদের শিক্ষক, পিতামাতা ও সমাজের বড়রা আমাদের নীতি নৈতিকতা ও শালীনতার যে শিক্ষা দিয়ে আসছেন আবহমান কাল ধরে সেখানে শুধু পর্নোগ্রাফিই নয়, যে কোনো ধরনের অশ্লীলতার বিন্দুমাত্র স্থান নেই। ‘নেশা’ গানটির অহেতুক যৌন আবেদনময়ী এমন ভিডিও চিত্রায়ন কেবল মিউজিক ইন্ডাষ্ট্রি নয় গোটা সমাজ পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য বিব্রতকর বলেই মনে করি।

লেখক : সাংবাদিক, রেডিও টুডে

অস্কারে যাচ্ছে জয়ার ‘খাঁচা’

গত সপ্তাহে সারাদেশে মুক্তি পেয়েছে আকরাম খান পরিচালিত ‘খাঁচা’ নামে সিনেমা। একাডেমি অ্যাওয়ার্ড (অস্কার) এর ৯০তম আসরের বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় যাচ্ছে এ সিনেমাটি। আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানান চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হাবিবুর রহমান খান।

প্রতি বছরের মতো এবারো অস্কারের বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ। এ লক্ষ্যে চলচ্চিত্র বাছাইয়ের জন্য ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন হাবিবুর রহমান খান। এই কমিটির পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এ সময় হাবিবুর রহমান খান বলেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় ছিল চলচ্চিত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। এ বছর বাছাই প্রক্রিয়ায় ২টি চলচ্চিত্র অংশগ্রহণ করে। চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে শুভ টেলিফিল্ম প্রযোজিত, জাহাঙ্গীর আলম সুমন পরিচালিত ‘সোনা বন্ধু’ এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত, আকরাম খান পরিচালিত ‘খাঁচা’।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের উদ্যোগে গঠিত চলচ্চিত্র বাছাই কমিটি গত ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় ৯০তম অস্কারে বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আকরাম খান পরিচালিত ‘খাঁচা’ চলচ্চিত্র মনোনীত করে।

সংবাদ সম্মেলনে বাছাই কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের ওপর ভিত্তি করে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক রচিত একই নামের গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। যৌথভাবে এর চিত্রনাট্য লিখেছেন আজাদ আবুল কালাম ও আকরাম খান। এতে অভিনয় করেছেন- আজাদ আবুল কালাম, জয়া আহসান, মামুনুর রশীদ, চাঁদনী, শাহেদ আলী, কায়েস চৌধুরী, পিদিমসহ অনেকে। ২০১১-১২ সালে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘খাঁচা’।

দীপিকার সঙ্গে রোমান্স করবেন সিদ্ধার্থ

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। এবার পর্দায় একসঙ্গে জুটি বাঁধতে চলেছেন তারা। শোনা যাচ্ছে, নির্মাতা করণ জোহরের পরবর্তী সিনেমায় দেখা যাবে তাদের।

সম্প্রতি ইন্টারনেটে প্রকাশিত একটি ছবিতে করন জোহর, দীপিকা পাড়ুকোন, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও মনীশ মালহোত্রাকে একসঙ্গে দেখা যায়। এরপরই দীপিকা ও সিদ্ধার্থের একসঙ্গে অভিনয়ের গুঞ্জন চাউর হয়। পরবর্তীতে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সত্যিই করনের একটি সিনেমায় দেখা যাবে সিদ্ধার্থ-দীপিকাকে।

এ প্রসঙ্গে একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার সিনেমার পাঁচ বছর পর আবারো সিদ্ধার্থকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করতে চাইছেন করন জোহর। চারজন মিলে সিনেমা নিয়ে আলোচনা করেছেন। পর্দায় সিদ্ধার্থ ও দীপিকাকে জুটি হিসেবে ভালো মানাবে বলে সবাই সম্মতি জানিয়েছেন।’

দীপিকা পাড়ুকোনের পরবর্তী সিনেমা পদ্মাবতী। ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে রানি পদ্মিনি চরিত্রে এ অভিনেত্রীর লুক। দর্শকের প্রশংসায় ভাসছে এটি। সিনেমাটিতে আরো অভিনয় করছেন রণবীর সিং ও শহিদ কাপুর। সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিতপদ্মাবতী মুক্তি পাবে ১ ডিসেম্বর। অন্যদিকে সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সর্বশেষ সিনেমা অ্যা জেন্টলম্যান। সিনেমাটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ। এ অভিনেতার পরবর্তী সিনেমা ইত্তেফাক।

অবশেষে পোড়ামন-টু’র নায়ক সিয়াম

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া নির্মাণ করছেন ‘পোড়ামন-টু’ নামে সিনেমা। রায়হান রাফি পরিচালিত এ সিনেমায় নায়কের চরিত্রে চিত্রনায়ক রোশানের থাকার কথা থাকলেও তিনি এ সিনেমায় থাকছেন না বলে সম্প্রতি জানিয়েছে এর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

সিনেমাটিতে কে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করবেন এর সঠিক উত্তর দিয়ে জিতে নিতে পারবেন ‘i phone 7+ 256GB Rose Pink Colour’। এমন কুইজের ঘোষণাও দিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি। এরপরই চলচ্চিত্রাঙ্গনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নাম উঠে আসে কয়েকজনের নাম। তবে রাইজিংবিডি গত ২০ সেপ্টেম্বর ‘পোড়ামন-টু’র নায়ক সিয়াম?’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে। এরপর বেশ কিছু মিডিয়া খবরটি প্রকাশ করে।

আজ সোমবার জাজ মাল্টিমিডিয়ার কার্যালয়ে ‘পোড়ামন-টু’ সিনেমার নায়ক সিয়াম বলে ঘোষণা করেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ। এ সময় কুইজের উত্তরদাতাদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে একজনকে বিজয়ী ঘোষাণা করেন। কুইজ বিজয়ী হলেন আবু সুফিয়ান। তার হাতে i phone 7+ 256GB Rose Pink Colour’ তুলে দেন আব্দুল আজিজ।

এ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে টেলিভিশন অভিনেতা সিয়ামের। গত ১২ মার্চ মেঘনা রিসোর্টে ‘পোড়ামন-টু’ সিনেমার মহরত অনুষ্ঠিত হয়।