সুজির নুডলসই বেশী স্বাস্থ্যকর

noodles

noodlesআকাশ২৪ ডেস্কঃ বিকালের নাস্তায় আমাদের বেশিরভাগেরই পছন্দের তালিকায় থাকে নুডলস। সাধারণত ছোট বড় সবাই খেতে পছন্দ করেন এটি। নুডলস খুব কম সময়ে তৈরি করা যায়। একইসঙ্গে সুস্বাদুও। তাইতো গত কয়েক বছর ধরেই আমাদের প্রত্যেকের রান্নাঘরে পাকাপোক্ত জায়গা করে নিয়েছে নুডলস। এখন প্রশ্ন হলো, এই নুডলস আমাদের শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর কিনা?কেননা কিছুদিন ধরেই নুডলসের স্বাস্থ্যগত গুণাগুণ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছিল। চটজলদি তৈরি হয়ে যাওয়া সুস্বাদু এই খাবার আদৌ স্বাস্থ্যকর কিনা? প্রিয়জনদের আমরা যে খাবার খাওয়াচ্ছি, তা কি আদৌ তাঁদের শরীরের উপকারে লাগছে?

সম্প্রতি গবেষকেরা জানাচ্ছেন, যে সমস্ত নুডলস ময়দা দিয়ে তৈরি হয়, তাতে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, প্রিজারভেটিভস, এবং অস্বাস্থ্যকর স্যাচ্যুরেটেড ফ্যাট থাকে। যা নিয়মিত আমাদের শরীরে গেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া এই নুডলস হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেয়।গবেষকরা আরও বলছেন, ময়দা ছাড়াও সুজি দিয়ে নুডলস তৈরি হয়। ময়দা দিয়ে তৈরি নুডলসের তুলনায় সুজি দিয়ে তৈরি নুডলসের স্বাস্থ্যগত গুণাগুণ অনেক বেশি। এতে প্রোটিনের মাত্রা বেশি থাকে। আবার অতিরিক্ত ওজনও বাড়তে দেয় না। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ময়দা নয়, সুজি দিয়ে তৈরি নুডলসই খান। 

ডায়াবেটিসের ১০টি নীরব উপসর্গ

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ডায়াবেটিস এডুকেটরসের মুখপাত্র, ইলিনয়েসের সনদপ্রাপ্ত ডায়াবেটিস শিক্ষক এবং রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান মেলিসা জয় ডবিনস বলেন, ‘ডায়াবেটিস এমন না যে আপনি একদিন জেগে ওঠলেন এবং হঠাৎ করে আপনার তৃষ্ণা লাগছে, ক্ষুধা লাগছে ও ঘনঘন বাথরুমে যেতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে হয়।’ হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, জসলিন ডায়াবেটিস সেন্টারের স্টাফ ফিজিশিয়ান এবং মেডিক্যাল ডাক্তার অ্যারন সাইপেস বলেন, ‘বাস্তবিকপক্ষে, বেশিরভাগ মানুষ ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পর্যায়, এমনকি মাধ্যমিক পর্যায়েও জ্ঞাত থাকে না যে তাদের ডায়াবেটিস আছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘ডায়াবেটিসের এসব পর্যায়ে আপনি উদ্দীপিত না হওয়ার মানে এই নয় যে আপনি ডায়াবেটিস সংশ্লিষ্ট সমস্যা থেকে রেহাই পাচ্ছেন।’

আপনি যত সময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না করে পার করবেন, আপনার তত বেশি হৃদরোগ, কিডনি রোগ, অঙ্গচ্ছেদ, অন্ধত্ব এবং অন্যান্য মারাত্মক জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ড. সাইপেস বলেন, ‘আমরা পরামর্শ দিচ্ছি যে ডায়াবেটিস রোগীরা ডায়াবেটিসের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ (যেমন- পারিবারিক ইতিহাস, ওজন বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি) যেন নিয়মিত মূল্যায়ন করেন।’ আপনি যদি অসুস্থতাবোধ করেন, তাহলে সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয়ের জন্য ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

নিচের সূক্ষ্ম ডায়াবেটিস উপসর্গগুলোকে ডায়াবেটিসের নীরব উপসর্গ বলা যায়। এসব উপসর্গের ব্যাপারে লোকে সচেতন বা জ্ঞাত থাকে না বললেই চলে। এবার জেনে নেওয়া যাক ডায়াবেটিসের ১০টি নীরব উপসর্গ সম্পর্কে।

১. আপনি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পিপাসার্ত হন
প্রচুর পরিমাণে মূত্রত্যাগ আপনাকে বিশুষ্ক বা পিপাসার্ত করে তুলবে। ডবিনস ডায়াবেটিস রোগীদের কমন একটি উপসর্গ লক্ষ্য করেন: ডায়াবেটিস রোগীরা তৃষ্ণা মেটাতে বিভিন্ন পানীয়ের (যেমন- জুস, সোডা, চকলেট মিল্ক) দিকে ঝুঁকে। এসব শর্করাযুক্ত পানীয়ের অতিরিক্ত শর্করা ব্লাডস্ট্রিমকে পূর্ণ করে। এ কারণে রোগীরা সমস্যার দিকে এগিয়ে যায়।

২. আপনি অল্প ওজন হারিয়েছেন
ডায়াবেটিসের একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হচ্ছে স্থূলতা বা ওজন বেড়ে যাওয়া। অন্যদিকে, কয়েক পাউন্ড ওজন কমে যাওয়া হতে পারে ডায়াবেটিসের নীরব উপসর্গের একটি। ড. সাইপেস বলেন, ‘দুটি কারণে ওজন হারাতে পারে। একটি হচ্ছে, আপনি যে পানি হারান (মূত্রত্যাগের মাধ্যমে)। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, আপনি প্রস্রাবের সঙ্গে কিছু ক্যালরি হারান এবং আপনার শরীর রক্তের শর্করা থেকে সব ক্যালরি শোষণ করতে পারে না। যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা যদি রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে কিছু ওজন বেড়ে যেতে পারে। ড. সাইপেসের মতে এটি একটি ভালো দিক। কারণ এর দ্বারা রক্ত শর্করার মাত্রায় ভারসাম্য আসে।

৩. আপনি বাথরুমে বেশি যান
ডবিনস বলেন, ‘আপনার ডায়াবেটিস থাকলে খাবারের শর্করা নিয়ন্ত্রণে শরীরের কার্যক্ষমতা কমে যাবে, তাই ব্লাডস্ট্রিমে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আপনার শরীর এসব শর্করাকে প্রস্রাবে পাঠিয়ে শর্করামুক্ত হয়।’ তাই বেশি করে বাথরুমে যাওয়া ডায়াবেটিসের একটি উপসর্গ হতে পারে। ড. সাইপেস বলেন, ‘অধিকাংশ রোগীরা কতবার বাথরুম ব্যবহার করে তার ব্যাপারে অপরিহার্যভাবে সচেতন থাকে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘যখন আমরা রোগীদেরকে প্রস্রাবের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করি, উত্তর হিসেবে শুনি: ওহ, হ্যাঁ, আমার মনে হয় আমি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বাথরুমে যাই।’ আপনার জন্য সতর্কতামূলক প্রশ্ন হচ্ছে, আপনার রাতে কতবার প্রস্রাবের জন্য জাগার প্রয়োজন হয়? এক বা দুই বার স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু প্রস্রাব ত্যাগের জন্য জাগরণের আধিক্য ডায়াবেটিসের উপসর্গ হতে পারে।

৪. আপনি অস্থির এবং ক্ষুধার্ত হন
নিউ মেক্সিকোর একটি এন্ডোক্রাইনোলজি ক্লিনিকের নার্স প্র্যাকটিশনার এবং আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের হেলথ কেয়ার অ্যান্ড এডুকেশনের ২০১৪ সালের সভাপতি মার্জোরি সাইপ্রেস বলেন, ‘হঠাৎ অস্থির হওয়া এবং অবিলম্বে কার্বোহাইড্রেটর প্রয়োজন দেখা দেওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিরল কিছু নয়।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘যখন আপনার উচ্চ রক্ত শর্করা থাকবে, তখন শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে শরীরের সমস্যা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আপনি যদি উচ্চ কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ কোনো কিছু খান, আপনার শরীর একটু অত্যধিক ইনসুলিন নিঃসরণ করে এবং দ্রুত আপনার শর্করা কমে যায়। এটি আপনাকে অস্থির করে তুলবে এবং কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা পাওয়ার জন্য আপনার আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করবে। এ অবস্থা আপনাকে ভিশাচ সাইকেল বা দুষ্ট চক্রের দিকে নিয়ে যেতে পারে।’

৫. আপনি সবসময় ক্লান্ত হন
আপনি নিশ্চয় প্রতিনিয়ত ক্লান্ত হন। অগ্রসরমান ক্লান্তি মনোযোগ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি উপসর্গ। এ ক্লান্তি আপনি শরীরে শক্তির জন্য যা খাচ্ছেন তা শরীরে সঠিকভাবে মিশ্রিত না হওয়া এবং যেসব কোষের জন্য এসব খাওয়া হচ্ছে তাদের নিকট শর্করা পৌঁছতে না পারার কারণে হতে পারে। ডবিনস বলেন, ‘আপনার শরীরের জন্য যা প্রয়োজন আপনি তা পাচ্ছেন না।’ এর ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনি ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন এবং আলস্যবোধ করছেন।’ অনেক সময় টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে অল্প সময়ের জন্য আপনার শর্করা বেড়ে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিসের এ উপসর্গ ধীরে ধীরে আসতে পারে।

৬. আপনি বিষণ্ন ও বদমেজাজী হন
সাইপ্রেস বলেন, ‘আপনার রক্ত শর্করা কাজ না করলে আপনি শুধুমাত্র খারাপবোধ করবেন না, আপনি বদমেজাজীও হতে পারেন।’ প্রকৃতপক্ষে, উচ্চ রক্ত শর্করা বিষণ্নতার মতো উপসর্গকে বয়ে আনতে পারে। সাইপ্রেস বলেন, ‘আপনি খুব ক্লান্ত অনুভব করবেন, কোনো কিছু করতে মন চাবে না এবং বাইরে বের হতে চাবেন না, শুধুমাত্র ঘুমাতে ইচ্ছে হবে।’ তিনি সেসব রোগীদের দেখবেন, যারা মনে করে তাদের বিষণ্নতার চিকিৎসার প্রয়োজন। তাদের রক্ত শর্করা স্বাভাবিক পাওয়া গেলে তিনি মেজাজ উন্নয়নে গুরুত্ব দেবেন।

৭. আপনার দৃষ্টি ঝাপসা মনে হয়
আপনার কি দৃষ্টি ঝাপসা মনে হয়? এ প্রসঙ্গে ড. সাইপেস বলেন, ‘আতঙ্কিত হবেন না। এটি ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বা রেটিনা ক্ষয়ের ফলাফল নয়, রেটিনোপ্যাথি হলে চোখের পেছনে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ ডায়াবেটিসের প্রাথমিক ধাপে চোখের লেন্স ভালোভাবে ফোকাস করতে পারে না, কারণ চোখে শর্করা জমে যা সাময়িকভাবে লেন্সের গঠনের পরিবর্তন করে। ড. সাইপেস বলেন, ‘আপনি ডায়াবেটিসের কারণে অন্ধ হয়ে যাবেন না।’ তিনি রোগীদের আশ্বস্ত করেন, প্রায় ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর আপনার রক্ত শর্করা স্থিতিশীল হয়ে যাবে, আপনি আর ঝাপসা দেখবেন না, আপনার চোখ খাপ খাইয়ে নেবে।

৮. আপনার কাটা ও ক্ষত খুব ধীরে সারে
ড. সাইপেস ব্যাখ্যা দেন, ‘আপনার রক্ত শর্করার মাত্রা উচ্চ হলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম এবং শরীর আরোগ্যলাভের প্রক্রিয়া ভালোভাবে কাজ করে না।’ এ কারণে শরীরের কোথাও কেটে গেলে, ক্ষত হলে কিংবা আঁচড় লাগলে সেরে ওঠতে দেরি হয়।

৯. আপনার পা অসাড় হয়
আপনার যে ডায়াবেটিস আছে তা উপলব্ধি করার আগেই উচ্চ মাত্রার শর্করা নানারকম জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। ড. সাইপ্রেস বলেন, এসব জটিলতার একটি হচ্ছে কোমল স্নায়ুর ক্ষতিগ্রস্ততা, যা আপনার পায়ে অসাড়তা সৃষ্টি করে।

১০. আপনার ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন ও ইস্ট ইনফেকশন আছে
প্রস্রাবে উচ্চ মাত্রার শর্করা থাকার কারণে যোনিনালী ব্যাকটেরিয়া ও ইস্টের প্রজনন স্থল হয়ে যেতে পারে, যার ফলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা মূত্রনালীর সংক্রমণ এবং ইস্ট ইনফেকশন বা ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে। আবৃত্তিশীল ইনফেকশন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাইপ্রেস বলেন, সাধারণত আপনার ইনফেকশন হলে ডাক্তার ডায়াবেটিস আছে কিনা নির্ণয় করবেন, যদি ইতোপূর্বে আপনার তা না থাকে। তিনি বলেন, যেসব নারীরা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের কারণে ইমার্জেন্সি রুমে যায়, তাদের ইনফেকশন প্রায়ক্ষেত্রে প্রতিহত করা হয়।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

এই ৭ কারণেও হতে পারে হার্ট অ্যাটাক

আপনার মেজাজ, কাজের ধরন, ঘুমের সূচি কিংবা পরিবেশ আপনাকে ফেলে দিতে পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে। এ প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

১. আপনি সামান্য বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ হন

আপনি কি মানসিক বিপর্যয়ে হাল্কের রূপ ধারণ করেন? এ রকম উত্তেজনাপ্রবণ মানসিক অবস্থা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিকে প্রচণ্ডভাবে বাড়িয়ে দেয়। ইউনিভার্সিটি অব অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা আশঙ্কাজনক হার্ট অ্যাটাকের শিকার হওয়া ৩১৩ জন রোগীকে প্রশ্ন করেন, যাদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে ক্রোধের মাত্রা ছিল। তারা আবিষ্কার করেন যে, ক্রোধের তীব্র বিস্ফোরণের (এ অবস্থাকে খুব ক্রোধ, ক্রোধের উত্তেজনায় কঠিন শরীর, দৃঢ়ভাবে মুষ্টি ধরা, দাঁতে দাঁত ঘষার সঙ্গে সংজ্ঞায়িত করা যায়) দুই ঘণ্টার মধ্যে রোগীদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা ৮.৫ গুণ বেশি ছিল। আপনি যত বেশি ক্রোধে জ্বলবেন, আপনার তত বেশি হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

২. আপনি অধিকাংশ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটান

আপনি হয়তো দিনের অধিকাংশ সময় টেলিভিশন বা কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে কাটান। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের এক গবেষণার বিবরণে জানা যায়, যেসব লোকেরা দিনের চার ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় টিভি দেখে বা কম্পিউটারে কাজ করে, তাদের কার্ডিওভাসকুলার রোগের (যেমন- হার্ট অ্যাটাক) ঝুঁকি ১২৫ শতাংশ বেড়ে যায়। এসবের সামনে দীর্ঘসময় বসে থাকলে শরীরের চর্বি নিয়ন্ত্রণকারী ও ধমনীর বন্ধ হওয়া প্রতিরোধে ভূমিকা পালনকারী লিপোপ্রোটিন লাইপেস নামক এনজাইমের ধ্বংস হয়। টিভি বা কম্পিউটার নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হলে প্রতি ২০ মিনিট পর পর বিরতি নিন। স্ট্যান্ডিং ডেস্কের সাহায্যও নিতে পারেন, কারণ বসার চেয়ে দাঁড়িয়ে কাজ করলে ৩০ শতাংশ বেশি ক্যালরি পোড়াতে পারবেন।

৩. আপনি প্রতিরাতে ছয় ঘন্টার কম ঘুমান

অনেক বয়স্ক লোক পরামর্শ মোতাবেক প্রতিরাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে এর পরিমাণ কমে গেলে প্রাণনাশক ফলাফল আসতে পারে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান জার্নাল অব ওয়ার্ক, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথে প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, যেসব জাপানি পুরুষেরা প্রতিরাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমিয়েছে তাদের, যারা প্রতিরাতে সাত বা আট ঘণ্টা ঘুমিয়েছে তাদের তুলনায়, ৫ গুণ বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ছিল। জাপানের টোচিগিতে অবস্থিত জিকি মেডিক্যাল স্কুলের এক গবেষণায় জাপানী নারীদের মধ্যে যারা ছয় ঘণ্টার কম নিদ্রা যান, তাদের ক্ষেত্রেও একই ফলাফল পাওয়া গেছে।

৪. আপনি ধোঁয়াপূর্ণ এলাকায় বাস করেন

ধোঁয়া বা বায়ু দূষণকারী পদার্থ আপনার হার্ট ও ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর। গবেষকরা দক্ষিণ বোস্টনে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষুদ্র কণাকার পদার্থ বা বিষাক্ত পদার্থ (জ্বালানি পোড়ানোর ক্ষুদ্র কণা ও যানবাহন থেকে নির্গত হওয়া পদার্থ) কিভাবে প্রভাবিত করে তা নির্ধারণ করতে ঘণ্টায় বায়ু দূষণ পরিমাপন ব্যবহার করেন। তারা দেখতে পান যে, উচ্চ সমাবেশের বায়ু দূষণে রোগীদের প্রথম হার্ট অ্যাটাক উপসর্গ দেখা দেওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা ৪৮ শতাংশ বেড়ে যায়। এ ঝু্ঁকি বেড়ে ৬৯ শতাংশে চলে যায় যখন রোগীরা হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পূর্বে ২৪ ঘণ্টা উচ্চমাত্রার বায়ু দূষণে ছিল।

৫. আপনার ডিভোর্স হয়েছে

আপনাকে ডিভোর্স আক্ষরিক অর্থে মানসিক যন্ত্রণায় রাখবে। ডিউক ইউনিভার্সিটি অব মেডিসিন জীবনে অন্তত একবার বিয়ে করা ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়স্ক ১৬,০০০ পুরুষ ও নারীর ওপর গবেষণা পরিচালনা করেন। প্রতি দুই বছর, গবেষকরা গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বৈবাহিক অবস্থা এবং সার্বিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করেন। বিবাহিত অবস্থায় থাকা নারীদের তুলনায় একবার ডিভোর্স হওয়া নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ বেশি ছিল এবং যাদের দুই বা তার অধিক বার ডিভোর্স হয়েছে তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৭৭ শতাংশ বেশি ছিল। অন্যদিকে, বিবাহিত অবস্থায় থাকা পুরুষ ও একবার ডিভোর্স হওয়া পুরুষদের হার্ট অ্যাটাকের ঝু্ঁকি একই ছিল, কিন্তু দুই বার ডিভোর্স হওয়া পুরুষদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়।

৬. আপনি ডেলাইট সেভিং টাইম ব্যবহার করছেন

গবেষকরা স্টেন্ট ইনসার্শনের প্রয়োজন হওয়া হার্ট অ্যাটাকের সংখ্যা নিরূপণের জন্য মিশিগান হসপিটালের তিন বছরের রেকর্ড পর্যবেক্ষণ করেন। তারা দেখতে পান যে, ডেলাইট সেভিং টাইম (স্ট্যান্ডার্ড সময় একঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া) শুরু এবং শেষ করার ক্ষেত্রে স্টেন্ট ইনসার্শন প্রক্রিয়ার ওঠানামা ছিল। সোমবারে একঘণ্টা এগিয়ে নেওয়ার পর, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির বৃদ্ধি ছিল ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, মঙ্গলবার একঘণ্টা পিছিয়ে নেওয়ার পর, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ২১ শতাংশ কম ছিল। ডেলাইট সেভিং টাইমের সপ্তাহগুলোতে হার্ট অ্যাটাকের পরিমাণ অন্যান্য সপ্তাহের তুলনায় খুব বেশি ছিল না।গবেষকরা সিদ্ধান্তে আসেন যে, সময়ের পরিবর্তন বাধ্যতামূলকভাবে হার্ট অ্যাটাক ঘটাচ্ছে না, কিন্তু হার্ট অ্যাটাককে ত্বরান্বিত করছে এটা বলা যায়। ঘুম-জাগরণ চক্র ব্যহত হওয়া এবং নতুন সপ্তাহে কাজের শুরুতে মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে সম্ভবত হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৭. আপনি অত্যধিক তাপমাত্রাপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছেন

গবেষণায় দেখা যায়, অত্যধিক ঠান্ডা ও অত্যধিক গরম মানুষকে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে রাখে। ওরসেস্টার হার্ট অ্যাটাক স্টাডি পরিচালনার জন্য হৃদরোগীদের উপাত্ত ব্যবহার করা হয়। এ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন যে, হার্ট অ্যাটাকের পূর্বে ১৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট নিম্ন তাপমাত্রায় দুই দিন থাকা রোগীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। অন্য একটি গবেষণার শেষে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা দেখতে পান যে, একবার তাপমাত্রা ৬৮ ডিগ্র্রি ফারেনহাইটে পৌঁছলে পরবর্তী এক থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে প্রতি ১.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার বৃদ্ধির জন্য ২ শতাংশ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং প্রথমদিনের হট স্পেলে এ ঝুঁকি প্রতি ১.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটের জন্য ৬.৫ শতাংশ বাড়ে।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

যেসব স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে আপনি ক্লান্ত হন

আপনার মনে হতে পারে যে, দিনের কার্য সময় বাড়ানো কিংবা অস্বাভাবিক ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে আপনি ক্লান্তি অনুভব করছেন। আসলে কি তাই? আপনি সবসময় ক্লান্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ নিচের যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে।

১. আপনি রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন
ডা. অ্যামি শাহ বলেন, আপনি ডাক্তারের কাছে ক্লান্তি অনুভব করার কথা বললে, তারা প্রায়সময় যে বিষয়টি প্রথমে নির্ণয়ের চেষ্টা করবেন তা হল অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা কিংবা থাইরয়েড ডিসঅর্ডার, কারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে তা ধরা পড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘যখন কেউ বলে আমি ক্লান্তি অনুভব করি, তাহলে এটি একটি প্রশস্ত ধারণা এবং তা অনেক কিছুর ইঙ্গিত বহন করতে পারে। কিন্তু কেউ যদি বলে আমি ক্লান্তি অনুভব করি এবং দ্রুত ঘনঘন শ্বাস ফেলি অথবা যদি বলে আমার ব্যায়াম করতে কষ্ট হচ্ছে, তাহলে তা অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা নির্দেশ করতে পারে।’ রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে না পারলে রক্তস্বল্পতা হয় এবং রক্তস্বল্পতার প্রধান কারণ হচ্ছে, আয়রন ঘাটতি। রক্তস্বল্পতায় ভোগা লোকদের ক্লান্তি ছাড়াও ঠান্ডা লাগতে পারে, মাথা ঝিমঝিম করতে পারে, মেজাজ খিটখিটে হতে পারে এবং মাথাব্যথা করতে পারে।

২. আপনার থাইরয়েড সমস্যা রয়েছে
ডা. অ্যামি শাহ বলেন, ‘আপনার যদি থাইরয়েড সমস্যা (যেমন-আন্ডারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড বা হাইপোথাইরয়েডিজম) থাকে, আপনি ক্লান্তি অনুভব ছাড়াও ত্বকের শুষ্কতা, অত্যধিক কোষ্ঠকাঠিন্যতা এবং শক্তির অভাবে ভুগতে পারেন।’ থাইরয়েড গ্রন্থি যথেষ্ট পরিমাণে গুরুত্বপূর্ণ হরমোন উৎপাদন না করলে হাইপোথাইরয়েডিজম হয়ে থাকে। নারীদের হাইপোথাইরয়েডিজম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। থাইরয়েড ফাংশন টেস্টের মাধ্যেম সহজেই হাইপোথাইরয়েডিজম নির্ণয় করা যায়। যদি আপনার এ সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকে, আপনার ডাক্তার আপনাকে সিন্থেটিক বা কৃত্রিম থাইরয়েড হরমোন সেবনের পরামর্শ দিতে পারেন।

৩. আপনার প্রিডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস রয়েছে
রেজিস্টার্ড নার্স ও ব্লগার ডেভিড স্পেরো ডায়াবেটিস সেলফ ম্যানেজমেন্ট ডটকমে লিখেন, আপনার উচ্চ রক্ত শর্করা থাকলে আপনার রক্তসংবহন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, ফলে কোষসমূহ প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং পরিপোষক পদার্থ বা পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয় এবং এ কারণে ক্লান্তি আসে। তিনি ব্লগে আরো লিখেন, নিম্ন রক্ত শর্করার কারণেও ক্লান্তি অনুভব হতে পারে, কারণ কোষসমূহ ভালোভাবে কার্যসম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান পায় না। গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চ রক্ত শর্করা রক্তনালীতে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই প্রদাহ আপনাকে ক্লান্তি অনুভব করাবে।

৪. আপনি বিষণ্নতায় ভুগছেন
আপনি যদি সবসময় ক্লান্তি অনুভব করেন এবং সকালে বিছানা ছাড়তে না চান বা ঘুমের সমস্যায় ভুগেন, তাহলে আপনি সম্ভবত ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় ভুগছেন। এক্ষেত্রে আপনার ডিপ্রেশন স্ক্রিনিং প্রয়োজন হতে পারে। ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার কিংবা লাইফ স্ট্রেসার বা অ্যালকোহল মানসিক অবস্থায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য আপনার ডাক্তার স্ক্রিনিং টুল ব্যবহার করতে পারেন। ড. অ্যামি শাহ বলেন, বিষণ্নতা, অ্যালকোহলের অপব্যবহার এবং ক্লান্তি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। তিনি বলেন, কখনো কখনো লোকজন অ্যালকোহল সেবনে বিষণ্নতা দূর করতে চাবে এবং তারপর ক্লান্ত হবে।

৫. আপনার লিকি গাট বা খাদ্য সংবেদনশীলতা আছে
গাটকে মনে করা হয় কোষের টাইট টিউব যার ভেতরের জিনিস বাইরে আসে না এবং এ গাট হচ্ছে সরু নালী যেখানে শরীরের অন্যান্য জিনিসের প্রবেশ ছাড়া শরীরের জন্য যা প্রয়োজন শরীর তা শোষণ করে। ড. অ্যামি শাহ বলেন, ‘আপনি যদি নিম্নমানের খাবার (বিশেষ করে প্রচুর পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত খাবার) খান তাহলে গাটের কোষসমূহ ঢিলা বা শিথিল হয়ে যেতে পারে, টাইট গঠনের পরিবর্তে জালের মতো গঠন হতে পারে এবং যেসব প্রোটিন ব্লাডস্ট্রিম বা রক্তস্রোতের জন্য অপ্রয়োজনীয় তা ব্লাডস্ট্রিমে চলে আসতে পারে যা প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। প্রদাহমূলক প্রতিক্রিয়ার ফলে পেট ফাঁপা, ক্লান্তি, মনমরাভাব, মাথাব্যথা এবং ওজন বেড়ে যেতে পারে। আপনার যদি ফুড সেনসিটিভিটি বা খাদ্য সংবেদনশীলতা থাকে, তাহলে আপনার ক্লান্তি লাগতে পারে, ফুসকুড়ি ওঠতে পারে, পেট ফাঁপা হতে পারে এবং ব্রেইন ফগ বা মস্তিষ্ক কুয়াশাচ্ছন্ন হতে পারে। ড. অ্যামি শাহ বলেন, ‘ফুড সেনসিটিভিটির জন্য উত্তম কোনো পরীক্ষা নেই।’ সম্ভাব্য ফুড কালপ্রিট বা যেসব খাবার খেলে ফুড সেনসিটিভিটি হয় তা নিজে নিজে পরীক্ষা করুন, যেমন- আপনি খাবার থেকে যদি সকল প্রকার গম বাদ দেন এবং ভালো অনুভব করেন, তাহলে অন্যসময় খাবার তালিকায় গম রাখুন এবং এ খাবার গ্রহণের পর অলসতাবোধ করলে বুঝা যাবে গমের প্রতি আপনার ফুড সেনসিটিভিটি আছে।

৬. আপনি অ্যাড্রিনাল ফ্যাটিগে ভুগছেন
ড. অ্যামি শাহ বলেন, ‘অ্যাড্রিনাল ফ্যাটিগ পশ্চিমা ওষুধীয় বিষয় নয়, এটি ফাংশনাল ওষুধীয় বিষয় এবং অনেক পশ্চিমা ডাক্তার একে মেডিক্যাল সমস্যা হিসেবে স্বীকার করে না।’ এটি ল্যাব পরীক্ষায় নির্ণয় করা কঠিন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজের মতে, খুব সম্ভবত এটি পরীক্ষায় অ্যাড্রিনাল অপর্যাপ্ততা হিসেবে দেখা যায়, অথবা এন্ডোক্রাইন বা হরমোনাল ডিসঅর্ডার হিসেবে ধরা দেয় যা অ্যাড্রিনাল গ্ল্যান্ড পর্যাপ্ত পরিমাণে হরমোন উৎপাদন না করলে হয়ে থাকে। ড. অ্যামি শাহ বলেন, ‘হরমোন ভারসাম্যহীনতা আপনার জীবনের চাপপূর্ণ অবস্থার কারণে হতে পারে, যেমন- পারিবারিক সমস্যা, কার্যক্ষেত্রে নিত্য চাপ, ঘুমের স্বল্পতা, প্রয়োজনাতিরিক্ত ব্যায়াম, নিম্নমানের খাবার গ্রহণ এবং ড্রাগ বা অ্যালকোহলের অপব্যবহারে হতে পারে।’ এসব আপনার স্ট্রেস হরমোনকে বেশি পরিমাণে নির্গত করবে এবং আপনাকে ক্লান্ত ও ভঙ্গুর করে তুলবে।

৭. আপনার ইনফেকশন হয়েছে
ডাক্তাররা ক্লান্তির কারণ নির্ণয়ে দীর্ঘস্থায়ী ইনফেকশন পরীক্ষা করে দেখবেন, যেমন- এপস্টেইন বার ভাইরাস (মনোনিউক্লেওসিস) অথবা লাইম রোগ। অত্যধিক ক্লান্তির ক্ষেত্রে উভয় মেডিক্যাল সমস্যার (এপস্টেইন বার ভাইরাস এবং লাইম রোগ) উপস্থিতি থাকতে পারে।

৮. আপনার স্লিপ অ্যাপনিয়া হয়
আপনার স্লিপ অ্যাপনিয়া হলে ঘুমের মধ্যে কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটখানের জন্য শ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে, এ কারণে আপনি নাক ডাকতে পারেন। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে এ ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়, কিন্তু আপনার ব্রেইন আপনাকে শ্বাসরোধ জনিত মৃত্যু থেকে রক্ষা করবে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার স্লিপ মেডিসিন সেন্টারের পরিচালক এবং এমডি লিসা শাইভস ওয়েব এমডি ডটকমকে বলেন, ‘ব্রেইন লক্ষ্য করে আপনি কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছেন না এবং এটি আপনাকে বিপজ্জনক অবস্থায় স্বল্প সময়ের জন্য জাগিয়ে তুলে।’ এটি আপনার শ্বাসের জন্য ভালো হলেও শরীরে ক্লান্তির উদ্রেক করে। আপনি জেগে ওঠলেও এই বিনিদ্র মুহূর্ত এমন সংক্ষিপ্তভাবে আসে যে আপনি লক্ষ্যই করতে পারেন না। তাই পরেরদিন কেন ক্লান্তি লাগছে তার কারণ আপনি খুঁজে পান না।

৯. আপনার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ‘আপনার হার্ট ফেইলিউর বা হৃদস্পন্দন বন্ধ হলে, আপনার হার্ট শরীরে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত বহনের কাজ করতে পারে না।’ এক্ষেত্রে শরীর শরীরের টিস্যু থেকে ভাইটাল অর্গান বা অত্যাবশ্যক অঙ্গসমূহে রক্ত সরবরাহ করে। পায়ের মাংসপেশীতে কম রক্তের কারণে প্রতিদিনকার কাজকর্মে আপনি ক্লান্ত হতে পারেন। ফুসফুস থেকে রক্ত ব্যাকআপ হিসেবে শিরায় সরবরাহ হয় এবং পুনরায় ফুসফুসে ফিরে আসে। এর ফলে আপনার শ্বাস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আপনি ঘুমন্ত থাকলে এ অবস্থা আপনাকে জাগিয়ে দেবে।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট